আদিবাসী দিবস নিয়ে আমার কিছু কথা


.

গতকাল আদিবাসী দিবস গেলো। খুব ধুমধাম করে গত কয়দিন আদিবাসী নামক দিবসটি উদযাপন হয়েছে পাহাড়ে এবং মিডিয়ায়। গত দু' দিন মিডিয়াকে প্রায় দখলেই রেখেছে এই দিবসটির হেড লাইন ও কালারফুল সব ক্যামেরা চিত্র।

টকশোগুলো ছিল সরব, তর্কিত কিছু ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে। চ্যানেলগুলো খুব দৌঁড়াচ্ছে কার আগে কে বেশি প্রোগ্রাম দেখাতে পারে দিবসটির! আমার আলোচ্য বিষয় এটি নয়, এ বিষয়ে আমি কোন বিতর্ক করতে এই পোস্টের অবতারণা করি নাই।

আমার বিষয় হল পাহাড়ের এক সময়ের গেরিলা নেতা, স্বশস্ত্র সংগঠন শান্তিবাহিনী বা পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহিত সমিতির সভাপতি, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় দীর্ঘকাল ধরে নিয়োজিত চেয়ারম্যান জনাব সন্তু লারমা, ইউপিডিএফ ও জেএসএস (সংস্কার) নামে অস্ত্রধারী সংগঠনগুলোর নেতাদের দেখলাম আদিবাসী দিবস নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে। কিন্তু ১৯৯৭ সালের আগে বা এর কিছুকাল পরেও কিন্তু এই নেতারা আদিবাসী নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেন নাই। আদিবাসী দিবস পালন তো দূরের কথা উনারা কোনদিন আদিবাসী ছিল, তা মনেও করেন নাই, দাবিও করেন নাই। উনারা নিজেদেরকে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা, ইত্যাদি নামেই ডাকতে পছন্দ করতেন। এবং উপজাতি বা বিশেষ ক্ষেত্রে 'জুম্ম' জাতি দাবি করতে বেশি গর্ববোধ করতেন। কিন্তু হঠাৎ করে কি এমন ঘটনা এবং কারণ ঘটে গেল যে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে উল্লেখিত নামগুলো বাতিল করে দিয়ে এবং ইতিহাসকে পদদলিত করে আদিবাসী নামকরণে ওনারা একযোগে লাফিয়ে উঠলেন? সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে নেমে গেলেন কিছু বিশেষ বিশেষ সুশীল, মিডিয়া, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও সুশাসক। বিষয়টায় মানুষের মনে প্রশ্ন জাগাটা খুবই স্বাভাবিক।

১৯৯৭ সালের ০২ ডিসেম্বর আওয়ামী সরকারের সাথে অস্ত্রধারী সংগঠনের নেতা সন্তু লারমা উপজাতীয়দের পক্ষে পার্বত্য চুক্তি (শান্তি চুক্তি) তে স্বাক্ষর করেন। উল্লেখ্য, সন্তু বাবু 'আদিবাসী' দের পক্ষে নয়, 'উপজাতীয়দের' পক্ষেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এখানে আমি তা তুলে ধরতে চেয়েছি মাত্র।

আসুন দেখে নেওয়া যাক ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বরে সন্তু বাবুর স্বাক্ষরিত চুক্তির মুখবন্ধে কী আছে। চুক্তির প্রথম পাতায় (ক) সাধারণ- এর ক্রমিক নং-১-এ উল্লেখ আছে "উভয় পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল হিসাবে বিবেচনা করিয়া এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ এবং এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন অর্জন করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করিয়াছেন।"

(খ) এর ক্রমিক ১-এ উল্লেখ রয়েছে, "পরিষদের আইনে বিভিন্ন ধারায় ব্যবহৃত 'উপজাতি' শব্দটি বলবৎ থাকিবে।"




আরো উল্লেখ্য এরশাদ সরকারের সাথে ২১ সদস্য বিশিষ্ট উপজাতীয় নেতাদের একটি কমিটি উপজাতীয়দের পক্ষে "স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন ১৯৮৯"-এও উপজাতি শব্দ ও উপজাতীয়দের স্বার্থ সংরক্ষনের লক্ষে (কথাটি লিখিত) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সকল উপজাতীয় নেতা সহ সন্তু বাবুর কাছে অপরাপর সকল প্রশ্ন জমা রেখে আজ আমার একটি প্রশ্ন, মাত্র কয় বছর আগে পার্বত্য চুক্তিতে উপজাতীয়দের অধিকার সংরক্ষণে স্বাক্ষর করে এখন আদিবাসী দাবি করছেন কীভাবে? তবে কি তারা পার্বত্য চুক্তিকে অস্বীকার করছেন? পার্বত্য চুক্তি কি ভুল ছিল?

অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নাই মর্মে বার বার নোটিশ ও প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। কিন্তু মিডিয়া ও কিছু কিছু সংগঠন কিভাবে সরকারী প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে বার বার এই শব্দ ব্যবহার ও আদিবাসী নামে দিবস উদযাপন করছে? নিশ্চয়ই সরকার এখানে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে, নচেৎ এ বিষয়ে মিডিয়া এত বাড়াবাড়ি করে কি করে! কারণ, ইতোমধ্যেই যে সকল মিডিয়া সরকারের অপছন্দের কাজ করেছে, সে সকল মিডিয়াকে বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা কী এবং তাদের প্রজ্ঞাপনের অবস্থানই বা কী? আবারও তা পরিস্কার করা জরুরী।


Wadud Bhuiyan tells Daily Observer : 'Khaleda must be careful in choosing future leadership of BNP'


.

Is BNP trekking the right course in its drive to regain power is a question widely asked and feverishly debated in Bangladesh today, by both friends and critics of Bangladesh Nationalist Party Chairperson Begum Khaleda Zia.

There is no uniform answer available yet. But, as Khaleda Zia is pondering to restructure her party and re-energise its grassroots, some former BNP members of parliament are seen among seekers for a slice of the power-pie.

BNP says the restructuring is urgently needed as her party failed to "shake" the government of Prime Minister Sheikh Hasina through years of a timid anti-government campaign.

One among those trying to push themselves ahead in the likely transformation of leadership in the BNP is Abdul Wadud Bhuiyan, a two-time former MP from Chittagong Hill Tracts and ex-chairman of the Chittagong Hill Tracts Development Board. He is also President of Khagrachhari District unit of the Bangladesh Nationalist Party.

In a one-on-one discussion with the Daily Observer, Bhuiyan dwelt on a wide range of issues concerning his party and likely impact of remodelling BNP, as cherished by the party chief.

However, before turning to national politics, he revisited his past as Chairman of CHT Development Board. In that role, Bhuiyan says, he tried to prevent division of people based on ethnicity and instead protect their rights as equal citizens of Bangladesh.

"I hate racial discrimination and those who are involved in doing notorious politics with the ethnic issues. The ethnic communities who live in hill tract areas are all Bangladeshi people like us. Our main identity is Bangladeshi, so we should not create division among ourselves," he said.

"We want co-existence with honour through good understanding among us. It was my absolute dream throughout my life and I am struggling to achieve my dream. When I was chairman of the Chittagong Hill Tracts Development Board I completed many tasks to establish constitutional rights of the ethnic communities," he said.

"If I am elected again and my party comes to power, I will make a bigger drive towards achieving that end," Bhuiyan added.

About BNP, he said "I personally agree with the Chairperson to select BNP leadership taking on board young and energetic persons. But, it's a difficult task and it takes time. She (Khaleda) must be careful in choosing people for future leadership of the party."

"The party's high command must ensure that the leaders are capable to play a strong role in the anti-government movement and committed to the party instead of political neophytes such as businessmen, retired civil and military bureaucrats and musclemen."

Saying that BNP is still a formidable force and challenge to the ruling party (Awami League), Bhuiyan said, "The government is not allowing BNP to hold any demonstration like human chain against the government. As a result, it makes difficult for the party to show a new possibility to the nation."


Wadud Bhuiyan Interview


Besides, he said, most of the vocal senior leaders of BNP are either in jail or in hiding. "In fact the party is now jeopardised by the repression of the government. Therefore, in many cases, we have raised our voice to assert people-friendly demands but the initiative was in vain."

"I don't think there was no strategic fault in making strong policy to achieve success in previous anti-government campaign. There were limitations for the party to gain success as its leaders and workers did not perform their duties properly. Temporarily, we have failed to achieve expected result but eventually we will succeed to oust this undemocratic and oppressive government," said Bhuiyan.

He claimed that the government has become isolated from the countrymen. "That is our success. People did not go to polling stations to cast their votes responding to Khaleda Zia's call for rejecting the polls."

Success of anti-government movement does not mean the fall of the government absolutely but isolation from the people is also a success. "The government now clings to power with the support of the law enforcement agencies. We are not frustrated as the people's support is with us."

ইফতারেও বাঁধা?!


.

আমি গতকাল ঢাকা থেকে বরাবরের ন্যায় খাগড়াছড়ি আসলাম। একটি ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহন করেছি। কিন্তু জেলায় পৌছানোর সাথে সাথেই গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত জেলার প্রশাসন আমাকে বার বার ধাক্কা দিচ্ছে। অর্থাৎ আমাকে বলা হচ্ছে আমি যেন আমার নিজ জেলায়, আমার বাড়িতে না থাকি; এবং জেলা ছেড়ে চলে যাই। এভাবে গত সাত বছর ধরেই খাগড়াছড়ির প্রশাসন আমার সাথে একই আচরণ করে আসছে।

আজ আমাদের দলীয় অফিসে একটি ইফতার মাহফিল ছিল। কিন্তু আমাদের দলের অফিস ও ইফতার মাহফিলে না যাওয়ার জন্য প্রশাসন আমাকে অনুরোধ করে। অর্থাৎ অনুরোধ না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটা হলো অনুরোধের অনুবাদ।

অতি বৃষ্টিতে এই জেলা সদরের মুসলিম পাড়া, গঞ্জপাড়া, শান্তি নগর ও দিঘীনালা উপজেলার মেরুং এলাকায় পানি উঠে মানুষের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে গেছে। আমি এই জেলার একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাবেক সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে প্লাবিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাইলে প্রশাসন আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যেতে দেয়নি।

আমাকে আমার বাড়িতে থাকতে দিচ্ছে না। এ কোন দেশে বাস করছি? কিভাবে থাকবো এই দেশে? এই সরকার দেশের একজন নাগরিককে তার ঘরে, তার জেলায়, তার দলীয় অফিসে যেতে ও থাকতে দিবে না! এ কেমন সরকার ও রাষ্ট্র?

বিএনপি'র হাতেই হবে সরকার পতন


.

যেকোন খেলায় যেমন হার-জিত আছে, তেমনি আন্দোলনেও হার-জিত থাকে। এটাকে ব্যর্থতা বলে না। যদি ওই খেলার রেফারি আয়োজক দলের পক্ষে থাকে, তবে সে হারাকে তো ব্যর্থতা বলাই যায় না। আর খেলোয়াড়রা যদি খেলতে গেলেই রেফারি হলুদ কার্ড বা লাল কার্ড দেখিয়ে দেয়, তখন কোন ভাল খেলোয়াড়েরও আর রিস্ক নেয়ার সুযোগ থাকে না। এটাকে খেলোয়াড় বা নেতাদের ব্যর্থতা বলা যাবে না, মিয়া ভাই। আর আন্দোলন মানে সাথে সাথে সরকারের পতন নয়! মনে রাখবেন আওয়ামীলীগ ৯১ ও ২০০১-এ বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলন করেছিল, কিন্তু বিএনপি'র পতন করতে পারে নাই। বিএনপি সরকার বহাল ছিল। স্বাভাবিক নিয়মে নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে, সরকারের পরিবর্তন হয়েছিল।

ঠিক তেমনি স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের বিরোধিতা করে তার পতনের জন্য আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামায়াত ও বাম দলগুলোসহ দেশের সকল ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, মহিলা সংগঠনসহ আমজনতা এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে শরিক হয়ে জীবন দিয়েছে। কিন্তু এরশাদের কোন সংগঠনও ছিল না, জনসমর্থনও ছিল না, তারপরও এরশাদকে হটাতে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করতে হয়েছিল। অনেক বড় বড় নেতা এরশাদের সাথে আঁতাত করে এবং তার দলে ও মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়েও এরশাদের পতন ঠেকাতে পারে নাই। নয় বছর সময় লেগেছিল, কেউ আশা করেনি এরশাদের পতনে এতো সময় লাগবে! কিন্তু লেগেছিল! কেউই তার সাথে ছিল না। শুধু ঠোলা বাহিনীগুলো দিয়েই এরশাদ ৯ বছর অবৈধভাবে ক্ষমতায় ছিল।
যারা সব সময় বলেই আসছেন বিএনপি কোন দলই না। দেশে বিএনপি কোন গুরুত্ব বহন করে না। বিএনপি'র কোন জনসমর্থন নাই, এটি একটি খারাপ রাজনৈতিক দল, ইত্যাদি। টেলিভিশন টকশোতে গেলেই দেখি সে দালালরাই তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসে কম করে দশবার বিএনপির নাম উচ্চারণ করে। প্রশ্ন হলো, যদি বিএনপি এতোই খারাপ ও গুরুত্বহীন হয়ে থাকে, তবে সারাক্ষন বিএনপি বিরোধী এত কথা কেন?
এই আওয়ামী লীগ তো অনেক বড়, পুরানো, কর্মী-সমর্থক ও সুশীল দালালবান্ধব একটি দল। এদের গলার আওয়াজ ও পেশিশক্তি আপনার থেকে অনেক বেশি। এবং এরা প্রায় কিনে নিয়েছে, শুধুমাত্র সেবা দিয়ে যাচ্ছে দেশের সকল বাহিনী ও প্রশাসনকে। দুদক, কোর্ট, নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার সংগঠন, সকল মিডিয়া, দেশের ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদেরকে জিম্মি করে রেখেছে এই সরকার! এরপরেও আপনি কেন এত অস্থির যে, এক্ষুনি আওয়ামী সরকারকে হটাতে না পারলে বিএনপিকে ব্যর্থতার আসনে বসিয়ে দিতে হবে? তা ঠিক নয়। আন্দোলনের চরিত্রই এমন, আন্দোলনরত দল আগে যাবে, আবার পেছনে যাবে। শক্তি সঞ্চয় করে আবার সামনে যাবে, হারবে, হারবে এবং হারবে। এরপর একদিন বিজয় হাতের মুঠোয় আসবে ইনশাআল্লাহ্‌। এমনি করেই এই অবৈধ সরকার বিদায় নিবে। সে বিদায় যেকোনো দিন যেকোনো ভাবেই হতে পারে, হতাশ হবার কিছু নাই। যারা অস্থির ও অসুস্থ তারাই হতাশ হবে। আপনি নয়, আপনি আমার মত আশাবাদী হউন। ইনশাআল্লাহ্‌ বিএনপির হাতেই এই সরকারের পতন হবে।

সিগারেট-হীন জীবনের সূচনা!


.

খারাপ কাজগুলো, খারাপ অভ্যাসগুলো না করার জন্য, অন্যায়, কারো প্রতি অবিচার না করার জন্য এবং বলিষ্ঠভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য, মানুষের উপকার করার জন্য ছোট বেলা থেকেই মা উৎসাহিত করেছে, শিক্ষা দিয়েছে। মানুষকে ভালবাসতে শিখিয়েছে আমার মা, আমার পরিবার, আমার পারিপার্শ্বিকতা।

খারাপ অভ্যাস গুলোর মধ্যে বারণ করেছে মদ খাবেনা, জুয়া খেলবেনা, সিগারেট খাবেনা ইত্যাদি। একটা নির্দেশ ছাড়া বাকি সব পালন করেছি। অথাৎ জীবনে এক বারের জন্য মদ খাইনি, ধরি নাই। এক বারের জন্য জুয়া খেলি নাই। কিন্তু মায়ের শিক্ষার একটা জিনিষ অমান্য করে সিগারেট ধরে ফেলেছিলাম, তাও আবার স্কুল জীবনে না। কলেজ জীবনে না, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিকেও না, মানে অনার্স ১ম ও ২য় বর্ষ পর্যন্ত সিগারেট খাইনি। কিন্তু ৩য় বর্ষের দিকে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বড় ভাইদের অপারে ও প্ররোচনায় সিগারেট খাওয়া শুরু হল। তাও আবার যেই সেই সিগারেট না, তৎকালীন দামি বিদেশী ৫৫৫ ব্রান্ড এর সিগারেট দিয়েই শুরু করলাম, সে ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে। আজ পর্যন্ত প্রায় ২৬-২৭ বছর সিগারেট খেলাম। মানুষ কত নিষেধ করেছে, এটি খারাপ বলেছে, পেছনে হয়ত গালিও দিয়েছে লোকটি সিগারেট খায়, কি বাজে, ইত্যাদিও হয়তো বলেছে। বড়দের থেকে লুকিয়ে সিগারেট খাওয়া, বা প্যাকেট লুকিয়ে রাখা সে এক কঠিন সমস্যা। সভা, সমাবেশে থেকে বার বার বের হয়ে বা ওখানেই সিগারেট খাওয়া যে কি কঠিন সমস্যা ও বিব্রতভাব সৃষ্টি করে তা বলে-লিখে বুঝানো যাবে না। তবুও নেশার কারণে এই কাজটা করতে হতো।

যাক অবশেষে আপনাদের দোয়ায়, আল্লাহর ইচ্ছায় আমার জন্য এই কষ্টকর কাজটি করতে পেরেছি। আরাফাত রহমান কোকোর মরণোত্তর জানাজার দিন সম্ভবত ২৭ জানুয়ারি ২০১৫ তে সিগারেট ছেড়ে দিয়েছি। অনেকেই ছেড়ে আবার ধরতে বাধ্য হয়। বদ্ধ করতে পারে না। আমি আশা করছি ইনশাআল্লাহ সিগারেট আমাকে আর ছুঁতে পারবে না। আপনারা দোয়া করবেন যেন এই ক্ষতিকর খারাপ অভ্যাস থেকে মুক্ত থাকতে পারি।

সাথে সাথে আপনাদের আরেকটি পরামর্শ দিতে চাই, সিগারেটের ক্ষতির চেয়ে অনকগুন বেশি ক্ষতিকর হলো পান সুপারি। বিশেষ করে সুপারি সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী একটি গুতুত্বপূর্ন উপাদান। পৃথিবীর অনেক দেশেই সুপারিকে ক্যান্সার ফল হিসাবে ডাকা হয়। তাই যারা সুপারি বা পান সুপারি খান তাদেরকে অনুরোধ করবো পান সুপারি খাওয়া ছেড়ে দিন। তা না পারলে অন্তত সুপারি খাওয়া বন্ধ করুন।

মানুষ চেনা...


.

কিছু কিছু মানুষ আছে সমাজে আর পৃথিবীজুড়ে - পুরুষ এবং নারী উভয়। তদেরকে দেখলে মনে হবে এদের মত নিরীহ আর কেউ হতে পারে না। বাহির থেকে এদেরকে দেখলে মনে হবে, এরা পাপহীন একজন মানুষ। এদের কথা, বক্তব্য ও লেখা পড়লে মনে হবে এদের মত সত্যবাদি আর হতে পারেনা। এরা ভাল মানুষের মধ্যে উদাহরণ।

আসলে এদের কাছে গেলে আপনি বুঝতে পারবেন এরা কতটা নিষ্ঠুর, মিথ্যাবাদী, প্রতারক, পাপী ও চরিত্রহীন। কিন্তু এরা নিজেদেরকে দাবী করে রক্ষণশীল, দয়াশীল এবং অনেক অভিজ্ঞ। কিন্তু এদের সাথে মেলামেশা করলেই আপনি বুঝতে পারবেন এরা কতটা রক্ষনশীলের নামে ভন্ড, চরিত্রহীন ও অনভিজ্ঞ। এরা বাস্তবতার ধারেকাছেও নেই, এরা খুবই অহংকারী । এদের গরীব গৃহ-কর্মচারীরা পর্যন্ত এদের হাতে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত। এদের ঘরে দু' ধরণের রান্না হয়। এক. নিজেদের জন্য চিকন চাউলের উন্নত খাবার। আর কাজের লোকের জন্য মোটা চাউলের নিম্ন মানের খাবার।
 
উপটৌকন হিসাবে আসা ঝুড়িঝুড়ি ফল থেকে একটি ফলও কাজের লোকদের খেতে না দিয়ে ঝুড়িঝুড়ি ফল পচিয়ে, আবার সেই কাজের লোকদের মাধ্যমেই তা ময়লা হিসেবে ফেলে দেয় এরা। আর তা দেখে কাজের লোকগুলো দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এরা হিংসুটে, লোভি, এরা তাদের কাছের মানুষকেও ব্ল্যাকমেইল করতে একটুও দ্বিধা করে না। এরা প্রিয়জনের রক্তক্ষরণ করিয়ে সুখ লাভ করে। এরা গরিবকে সাহায্য দেওয়ার উপদেশ দেয়, কিন্তু নিজের হতদরিদ্র কাজের লোককে মেরে রক্তাক্ত করতে একটুও সময় নেয় না। এরা ঘরের মানুষের দুর্বলতার সুযোগ খুজে বেড়ায় কিন্তু এরা সহকর্মীদের সাথেও অবৈধ, অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে একটু বিচলিত হয় না, এসব ব্যাপারে এরা অধিক মাত্রায় সাহসী। এরা ঘরের মানুষকে পর্যন্ত এমন মানসিক নির্যাতন চালায়, ফলে ঘরের মানুষ আত্বহত্যার চেষ্টা করেও এদের হাত থেকে বাঁচতে চায়। এরা নিজে মারাত্মক অন্যায় করে তা আবার গুছিয়ে বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে অপরের উপর ছাপিয়ে দিতে খুবই দক্ষ। এদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকা উচিৎ।

কিন্তু এদেরকে আপনি চিনবেন কিভাবে? বুঝবেন কিভাবে? সেটা বড়ই শক্ত কাজ। এদেরকে চিনতে হলে এদের সাথে দিনে রাতে কম করে ৭২ ঘন্টা এক সাথে, এক কক্ষে থাকতে হবে, চলতে হবে। এদের সাথে লেনদেন করতে হবে, মিশতে হবে অনুসন্ধানী দৃষ্টি নিয়ে গভীরভাবে। এদের একক বা একতরফা কথা না শুনে, বিশ্বাস না করে দুপক্ষের কথা শুনতে হবে, পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এরা কতটা সত্যবাদী বা সত্যবাদিনী। অথবা নিজের জীবনের অনেক কিছু হারিয়ে সেই অভিজ্ঞতা দিয়েই ওদেরকে চিনতে হবে। তখন সে অভিজ্ঞতা ওই লোকের ক্ষেত্রে নিজের কোন কাজে আসলো না। নিজের যা হারানোর তা হারিয়ে গেল। এভাবে তাদেরকে চেনা যেতে পারে।

এরা এতটা নিষ্ঠুর যা প্রমান করলে, করতে পারলে আপনি এদেরকে নিষ্ঠুরভাবে শাস্তি দিতে বাধ্য হবেন। এরা নিজ সন্তানদের পর্যন্ত জিম্মি করে, গোপন করে ইত্যাদি উপায়ে বা নিজের ঘরে আগুন দিয়ে অপরকে দোষী প্রমান করতে মরিয়া হয়ে উঠে।

এদেরকে আমার কখনো কখনো মনে হয় সাইকো, আবার কখনো মনে হয় হিস্টিরিয়া আক্রান্ত রুগি। বা এরা নিরীহ চেহারাযুক্ত 'মানুষখেকো'। এরা মানুষের জীবন তছনছ করে মজা নেয়, এরা মানুষ রূপী পিশাচ। এদের কথা, ভাবভঙ্গী, লেখা, ও উপদেশমূলক বাণী শুনে মানুষ, আমরা ভুল করে থাকি। এটা আমার অভিজ্ঞতালব্ধ অধ্যায় থেকেই তুলে ধরা।

পিন্টু মরে নাই, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে


.

আরেকটি জেল হত্যাকান্ড ঘটে গেল। পিন্টু মরে নাই, তাকে মেরে ফেলা হয়ছে। প্রায় ৮ বছর পিন্টু কারাগারে। তা না হলে হয়তো পিন্টুকে আরো আগেই ইলিয়াস আলীর পরিণতি বরণ করতে হতো। কারণ অনেক। তার মধ্যে সংসদে পিন্টুর একটি বক্তব্যই কাল হয়েছে। তখন আমরা ক্ষমতায় ছিলাম। সংসদে পিন্টুর সে দিনের বক্তব্যের পর আমরা অনেকে ধারনা করেছিলাম, যদি আবার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে তাহলে পিন্টুর বেঁচে থাকা কঠিন হবে! কারণ চরিত্রগতভাবে আওয়ামীলীগ এরকমই। ইলিয়াস আলী ও সালাউদ্দিনের ক্ষেত্রেও এরকম কিছু কারণ আছে, মহা শক্তিধর ব্যক্তির ক্ষোভ আছে। আমিও এর বাহিরে নই, আল্লাহ রহম করো!

সিটি নির্বাচনের কারচুপি নিয়ে দেশে বিদেশের আলোচনা অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্যও এই সময়টা বেছে নেয়া হয়েছে কিনা, পিন্টু হত্যার জন্য তাও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে!

পিন্টুর সাথে শেষ দেখা হয়েছিল ঢাকা কারাগারে, অনেকে বলে পিন্টু খুব মেজাজি, তার প্রতিপক্ষরা বলতো খারাপ মানুষ। আমি কাছ থেকে তাকে যা দেখেছি, কখনওই তাকে খারপ মানুষের অন্তর্ভূক্ত করা যায় না। সে ছিলো অন্যায়ের প্রতিবাদকারী, কেউ কাউকে জুলুম করলে পিন্টু আক্রান্ত ব্যক্তির পক্ষে লড়াই করতেন, সে যে হোক না কেন। তার এমন গুণের ছোট্ট একটা উদাহরণ দিচ্ছি, আমরা তখন ঢাকা জেলে, কারাগার কতৃপক্ষ প্রতিদিনই আমাদের পঁচা মাছ খাওয়াতো। এ অবস্থায় অতিষ্ট হয়ে পিন্টু একদিন জেল সুপারকে ডেকে এনে বললো, আমার নাম পিন্টু, জানেনতো? জেল সুপার বললো, জ্বি, স্যার। পিন্টু আবার বললো, আপনার কারাগার আমার লালবাগ এলাকার মধ্যে, এটা মনে রাখবেন। আর এতো ভিআইপি বন্দীকে আপনি প্রতিদিন পঁচা মাছ খাওয়াবেন, তা বরদাশত করা হবে না। কথাটা মনে রাখবেন। এরপর থেকে আর কোনদিন আমাদেরকে অন্ততপক্ষে ঢাকা জেলে পঁচা মাছ খেতে হয়নি। জেলখানায় পিন্টু সারারাত আমল করতো, সারাদিন কোরআন পাঠ, নামাজ ও তছবি জপতো। আমরা তা দেখে অভিভূত হয়ে পড়তাম।

ঢাকা জেলের পরে আর পিন্টুকে দেখি নাই, তাকে নিয়ে যায় অন্যান্য জেলে। আমি রংপুর কারাগারে গিয়ে শুনি, কয়েকদিন আগেই পিন্টুকে অন্য কারাগারে নিয়ে গেছে। লালমনিরহাট কারাগারে যাওয়ার পর, জেলার আমাকে বললো, স্যার, আপনার এই কক্ষেই নাসির উদ্দিন পিন্টু স্যার ছিলো, তিনদিন আগে অন্য জেলে নিয়ে গেছে।

পিন্টু তোমাকে এরপর আর দেখি নাই প্রায় ৮ বছর। ভালো থেকো পরপারে এই কামনাই করি। জানি না অন্য জেলগুলোতে যেমনি অল্পের জন্য দেখা হয়নি, তেমনি যেন পরপারেও না হয়! আমিন।