জুতা নিক্ষেপ ও আমার ভাবনা


.

বাংলার মানুষ দেখছি কোনভাবেই খানদের সহ্য করাতো দূরে থাক পছন্দই করে না। ব্যাপারটা আমাকে খুব ভাবিয়ে তুলেছে, এর কারণ কি তা আমাকে খুব ভাবিয়ে তুলেছে। মা-বাবার কাছে শুনেছি আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খানকে এদেশের মানুষ জুতা মারতো, মহিলারা নাকি কাছে পাইলে ঝাড়ু মারতে চাইতো, যদিও তাদের মতো এতো উচা-লম্বা খানদেরকে তো আর কাছে পাওয়া সাধ্যের মধ্যে পড়ে না, তাই জনসভায় পাইলেই বাংগালী দূর থেকে খালি জুতা পারতো।

এখনও দেখিছি বাঙালির এই রোগ যায় নাই, ইহা বাঙালির জাতীয় রোগে পরিণত হইলো কিনা বুঝতে পারছি না! কয়েকদিন আগে বাংলার শাজাহাজান খানকে বাঙালি জুতা মারলো। আজ শুনলাম মহিউদ্দীন খানকে নাকি আবার বাঙালি বাংলার মাটিতেই জুতা মারলো, তাও আবার একটা দুইটা না হাজার হাজার জুতা। নতুন হইলে এক কথা ছিলো, সবগুলা জুতাই নাকি পুরাতন-ছেড়া। তো মারছো ভালো কথা, একটু নতুন দেইখা মারলে কি বাঙালির অসুবিধা হইতো? নতুন হইলে তো অন্তত খান সাহেবের ইজ্জতটা হইলেও রক্ষা পাইতো। যাক বাংলার মানুষ যে কি শুরু করলো?

নাকি দেশের মানুষ দেশের তুখোড় ও একমাত্র যোগ্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করা শুরু করলো তাও বুঝে উঠবার পারছি না। কারণ দেশের প্রধানমন্ত্রীতো আজকাল প্রায় কথায় কথায় বলেন "তাদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে"। এখন বাংলার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী বাংলার মাটিতেই বিচার শুরু করলো কিনা!! বুঝে উঠতে পারছি না।

যাই হোক, মানুষ যেই কারণেই হোক খানদের মনে হয় ছাড়বে না। যা পায় হাতের কাছে, তাই দিয়ে বোধ হয় মারতে শুরু করবে! আমার আফসোস এদেশের মানুষ কেন যে খানদের সাথে ভারতের মন্ত্রীদের মত আচরন করতে পারছে না বা উদার হতে পারছে না? যেমন কয়েকদিন আগে একটি অনলাইন পত্রিকায় পড়েছিলাম ভারতের এক মন্ত্রী নাকি- পাকিস্তানি লেখিকাকে রসালো ম্যাসেজ দিয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শশী থারুর নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে পাকিস্তানি কলাম লেখিকা মেহের তারার খানকে পাঠিয়েছেন গোটা ছ'য়েক মেসেজ। তাও যে সে মেসেজ নয়, রস-কস লাগানো ভালোবাসার ম্যাসেজ। এতে চরম বিরক্ত মেহের।

এদিন থারুরের অ্যাকাউন্ট থেকে মেহেরের টুইটার অ্যাকাউন্টে যে মেসেজগুলি এসেছে, তার একটিতে লেখা: 'আমি তোমায় ভালোবাসি। তোমায় এ রকম নিশ্চিতভাবে ভালোবাসতে বাসতেই আমি যাই। সব সময় রক্তপাত হচ্ছে, তবু আমি সব সময়ের জন্য তোমার।' অন্য আরেকটি বার্তায় লেখা হয়েছে, 'দুঃখজনক ভাবে আমার স্ত্রী সুনন্দা, যে আমার জন্য সবকিছু ছেড়েছে, সে তোমার-আমার সম্পর্কের কথা জানতে পেরে গিয়েছে।' বারবার এ ধরনের মেসেজ পেয়ে বিরক্ত মেহের খান টুইটারে লেখেন, 'কী চলছে এটা? আমায় কে টুইট করছে? শশী থারুরকে চিনি এবং তাকে দারুণ শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যা টুইট করা হচ্ছে তাতে আমি বিরক্ত ও অসুস্থ বোধ করছি।'

থারুরের এ বিষয়টি পুরো ভারত জুড়ে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখানে আমার আবারও প্রশ্ন জাগে খানদের আবার কি হইলো, জুতা মারলেও মনে কষ্ট, প্রেমের মেসেজ মারলেও মনে কষ্ট, তাহলে বাঙালি এবার করবে কি?