জিয়া বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট


.

এ বিষয়ে লন্ডন থেকে ২৬ মার্চ ২০১৪, বুধবার,
তারেক রহমান যা বলেন:

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমানকে বিতর্কিত অবস্থানে নিয়ে আসার পিছনে অন্য কোন দল দায়ী নয়, একমাত্র দায়ী আওয়ামী লীগ। তার দলের নেতৃবৃন্দ ও তার দল তাকে ছোট করেছে। তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানুষের জন্য আন্দোলন করেছেন তাকে আমরা সেই শ্রদ্ধা ও সম্মান করি তবে তার মানে এই নয় যে তারা আমাদের নেতা সম্পর্কে মিথ্যে কথা বলবে, অসম্মান করবে আর ইতিহাস সম্পর্কে জাতিকে মিথ্যে তথ্য দিবে। শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাকি দেননি এ বিষয়ে বিএনপি কোন প্রশ্ন তুলেনি, এ প্রশ্ন তুলেছে আওয়ামী লীগ। তাকে বিতর্কিত অবস্থায় নিয়ে এসে নিচে নামানোর দায় দায়িত্ব এককভাবে আওয়ামী লীগের, অন্য কারো নয়। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দেড় টায় পূর্ব লন্ডনের রয়েল রিজেন্সী অডিটোরিয়ামে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট দাবি করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে সঠিক ইতিহাস জানাবার সময় এসেছে। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট এটাই সত্যি, এটাই ইতিহাস। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া উচিত ছিল তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের। কিন্তু তারা তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। মার্চ মাস থেকে যে বাংলাদেশ স্বাধীন তারা শুধু সে ঘোষণা দিতেই ব্যর্থ হয়নি, তারা সেদিন বাংলাদেশের ৭ কোটি মানুষের মনের ভাষা বুঝতেও ব্যর্থ হয়েছিল । তিনি বলেন শহীদ জিয়া ৭ কোটি মানুষের মনের কথা বুঝতে পেরে তখনকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ব্যর্থতার পর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি কারো পাঠানো নয় বরং নিজের হাতে ড্রাফট করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছিলেন ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন ।

তারেক রহমান বলেন, আজ আমরা অনেককেই বলতে শুনি শেখ মুজিবুুর রহমান নাকি ৭ই মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এটি কোন বিতর্কের বিষয় নয়, এটি হচ্ছে প্রমাণের বিষয়, ইতিহাসের বিষয়। তিনি যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে জোরালো কোন প্রমাণ নেই, কিন্তু তিনি যে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি সে সম্পর্কে যথেষ্ট যৌক্তিক প্রমাণ রয়েছে। তিনি যদি ৭ই মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে থাকতেন তাহলে তার প্রায় ৪৫ দিন পর ১৭ এপ্রিল যে মুজিবনগর সরকার গঠন হয়েছিল সেটি হবার কথা ছিল ৮ই মার্চ। রেসকোর্স ময়দানের ভাষণ শেষে শেখ মুজিব নেতৃবৃন্দকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাবার কথা না বলে আলোচনার মাধ্যমে কেবিনেট গঠন করার কথা বলতেন। তখন সেটাই স্বাভাবিক ছিলো। তারেক বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা যদি তিনি করতেন তাহলে তার পরবর্তী দায়িত্ব ছিল দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা, নতুন সরকার গঠন করা । কিন্তু ৮ই মার্চের পর এ রকম কিছুই চোখে পড়েনি।
১৯৭১ সালের ৮ মার্চের ইত্তেফাক পত্রিকার প্রথম পাতার ফটোকপি দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, সে সময় ইত্তেফাকের মালিক মরহুম মানিক মিয়ার সাথে শেখ মুজিবের ভাল সম্পর্ক থাকার পরও ৭ই মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণার কোন সংবাদ সেদিন ছাপা হয়নি। শেখ মুজিব যদি স্বাধীনতার ঘোষণা করেই থাকতেন তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষের পত্রিকা ইত্তেফাকে সেদিন শিরোনাম হওয়া উচিত ছিল ‘বাংলাদেশ স্বাধীন‘ বা ‘ শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন’ ইত্যাদি। কিন্তু সেদিনের হেডিং ছিল ‘পরিষদে যাবার প্রশ্ন বিবেচনা করিতে পারি যদি..’। আর সাব হেডিং ছিল ‘সামরিক আইন প্রত্যাখান করো, জনপ্রতিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করো, সৈন্যদের ছাউনীতে ফিরিয়ে নাও, এবং নাগরিক হত্যার তদন্ত চাই’। তিনি বলেন এসবই আরেকজনের কাছে চাওয়া। স্বাধীনতার ঘোষণা করলে দেশের প্রধান হিসেবে শেখ মুজিবের কারো কাছে কিছু চাওয়ার দরকার ছিলো না।
তারেক বলেন, মুজিব ইয়াহিয়া বৈঠকে সে সময় ৪টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এগুলো হলো সামরিক সরকার প্রত্যাখান, এবং প্রেসিডেন্টের ঘোষণা বলে সামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর, ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকিবেন ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান হবেন, প্রথমে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্যরা পৃথক পৃথক বৈঠকে মিলিত হবেন এবং পরে যৌথ অধিবেশনে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র চুড়ান্ত করবেন। তিনি বলেন, যদি ৭ই মার্চ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে থাকেন তাহলে ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকা ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান হবার প্রস্তাব আসে কি করে। দফায় দফায় আলোচনার আড়ালে ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশীদের হত্যার জন্য যে হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন করলো তা তখনকার বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা বুঝতে পারলেন না। তিনি বলেন এসবে তাদের কোন খেয়াল ছিলো না কারণ তখন সমঝোতার মাধ্যমে শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের নয়।
তারেক রহমান বলেন, শেখ মুজিব নাকি ৩২ নম্বর ধানমন্ডি থেকে চিরকুটের মাধ্যমে ওয়ারলেসে চট্টগ্রামে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠিয়েছিলেন। তিনি ৫/৬ মাইল দুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থানরত শতাধিক বিদেশী সাংবাদিকদের কাছে চিরকুট না পাঠিয়ে কেন দুইশ’ মাইল দূরে চট্টগ্রামে তা পাঠালেন? এতেই প্রমাণিত হয় - এটা মিথ্যে কথা।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের ইত্তেফাকের একটি কপি দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, ২৪ মার্চে আন্দোলনরত জনতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে চারজন নিহত হবার পর ২৫ তারিখ বিভিন্ন পত্রিকায় শেখ মুজিব একটি বিবৃতি পাঠান। ইত্তেফাক এই বিবৃতির হেডিং দিলো ‘এ গণহত্যা বন্ধ কর’ আর সাব হেডিং দিলো ২৭ শে মার্চ সমগ্র বাংলাদেশে সর্বাতœক ধর্মঘট’। তারেক রহমান বলেন ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ২৭ মার্চ শেখ মুজিবের ধর্মঘটের ডাক সত্যিই হাস্যকর।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, আওয়ামীলীগ বছরের পর বছর ধরে জাতিকে যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে তা রুখে দাঁড়াতে হবে, আর সেজন্য আপনারা এসব পয়েন্ট মনে রেখে জাতিকে সঠিক ইতিহাস বলবেন, একবার না, দুই বার না, হাজার বার বলবেন। আওয়ামী লীগের মিথ্যাচার আমরা কিছুৃতেই মেনে নিতে পারি না।
২৬ মার্চ দেশ স্বাধীনতা ঘোষণার স্বপক্ষে তারেক বলেন, দেশ স্বাধীন হবার শেখ সাহেব দেশে আসার পর হতে কখনোও ৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালন হয়নি, কোন বিবৃতি বা বক্তব্যে শেখ মুজিব ২৬ মার্চের পরিবর্তে ৭ মার্চকে স্বাধীনতা দিবস বলেননি। এর মানে শেখ মুজিব নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন স্বাধীনতা দিবস ৭ মার্চ নয়, ২৬ মার্চ। সুতরাং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৪৩ বছরের ইতিহাসে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন হয়েছে, কখনো ৭ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন হয়নি।
আওয়ামী লীগের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছোড়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা ৭ মার্চ শেখ মুজিবের স্বাধীনতার ঘোষণার কথা বলেন তাদেরকে ঐতিহাসিক দলিল ও যুক্তির মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে। তিনি বলেন বাংলাদেশের সমস্ত মানুষকে এই প্রশ্নগুলো বিবেচনা করতে হবে, সঠিক উত্তর বের করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশের ইতিহাস জানা সম্ভব হবে।

এ সম্পর্কে

লেখক ও সাংবাদিক
মারুফ কামাল খান আরো বলেন

কালুরঘাটের রেডিও ট্রান্সমিটার সেন্টার থেকে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা উচ্চারণ করেন। এটা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল রেকর্ডে আছে, ইতিহাসে আছে এবং বহু মানুষ শুনেছে। কাজেই এ নিয়ে বিতর্ক নেই।অস্বীকার করার উপায় নেই।কিন্তু যেহেতু জিয়া, তাই আওয়ামী লীগ বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তুলতে চায়।তারা বলে, জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক নন, ঘোষণা পাঠক মাত্র।
মানলাম, পাঠক বা ঘোষক যাই হোক সেটা জিয়া, আর কেউ নন।তিনিই স্বকণ্ঠে, সদম্ভে, জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ওই সময়ে সেটা করেছিলেন।স্বাধীনতার ঘোষণা এ ভাবেই করতে হয়, শত্রু-মিত্র, বিশ্ববাসী সবাইকে শুনিয়ে। গুপ্তপন্থায় বা চিরকুট দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা হয় না।
স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার মানেই হলো, আপনাকে হয় জিততে হবে, না হয় মরতে হবে। তৃতীয় বিকল্প বা মাঝামাঝি আর কোনো পথ নেই। স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার অর্থই হোল, আপস বা সমঝোতার সব পথ রুদ্ধ করে দেয়া। জিয়া সেটাই করেছিলেন।এটা প্রবল ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চয়তায় ঘেরা এক কঠিন সিদ্ধান্ত। কারণ এরপর যদি কোনো রাজনৈতিক বোঝাপড়া হয়ে যেত পাকিস্তানের সংগে তবে, জিয়া হতেন রাষ্ট্রদ্রোহী।সেনাবিদ্রোহের দায়ে তাঁর মৃত্যুদন্ড ছিল অবধারিত। সেই ঝুঁকি মেনেই জিয়া বিদ্রোহ করে স্বাধীনতার বাণী উচ্চারণ করেছিলেন।
জিয়া তাঁর ঘোষণায় নিজেকে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান ও স্বাধীনতার অস্থায়ী প্রধান সমরনায়ক বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এটাও ইতিহাসের অংশ।অসংখ্য প্রামাণ্য দলিল, ভারতীয় ডকুমেন্ট, এমনকি আওয়ামী নেতাদের লেখা বই-পত্রেও আছে সেকথা।
এই ঘোষনার পর ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্বাধীনতাযুদ্ধের কমাণ্ডারদের বৈঠকে মুক্তিবাহিনী গঠন ও সেক্টর বিভাজন করে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ওই মিটিঙেই সিদ্ধান্ত হয়, ভারতে আশ্রিত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের খুঁজে বের করে তাদের সমন্বয়ে একটি প্রবাসী সরকার গঠন করতে হবে।
এরপর ১০ এপ্রিল প্রবাসী সরকার গঠিত হয় এবং সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ ১১ এপ্রিল তাঁর প্রথম বেতার ভাষণে জিয়াউর রহমানের ঘোষনাকেই স্বাধীনতার ঘোষনা হিসেবে অনুমোদন ও স্বীকৃতি প্রদান করেন। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের এক আমবাগানে প্রবাসী সরকারের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
জিয়াউর রহমানের ঘোষণা অস্বীকার করলে স্বাধীনতার যুদ্ধকেই অস্বীকার করা হয়, এর ইতিহাস বিকৃত ও ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়। জিয়া নিজেকে তাঁর ঘোষণায় বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানরুপে উপস্থাপন করেছিলেন।তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা বৈধ হলে, প্রবাসী সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান হিশেবেও তিনিই বৈধই ছিলেন।তাঁর এই ঘোষণাকে আর কোনো ঘোষণা মারফৎ কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ কখনো রদ বা রহিত করেনি।
এই ঐতিহাসিক ফ্যাক্টসটি আমাদের দেশে বিভিন্ন সময়েই আলোচিত হয়েছে।এ নিয়ে অনেকে লেখালেখি ও বিতর্কও করেছেন। জেনারেল শফিউল্লাহ, একে খোন্দকার, ব্রিগেডিয়ার মজুমদার, জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী, জেনারেল সুবিদ আলী ভুঁইয়া, মাঈদুল হাসান, বেলাল মোহাম্মদ , কাজী সিরাজ, হারুন উর রশীদ সহ অনেকেই এ নিয়ে লিখেছেন।সমস্যাটি হয়েছে সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লণ্ডনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক আলোচনাসভায় তারেক রহমান এই কথাটি উল্লেখ করায় এবং ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের এক সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া সেই ফ্যাক্টস-এর সমর্থনে কথা বলায়।
যে তরুণরা ইতিহাস জানে না তারা এ নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করতেই পারে। কিন্তু যারা জানে তেমন জ্ঞানপাপীদের হৈচৈ সত্যিই খুব নোংরা ভাঁড়ামি।
আমি এদের চরিত্রটা জানি ও কৌশল, অপকৌশলগুলো বুঝি। তারেক রহমানের বক্তব্যের পর তাই আমার আশংকা ছিল, এরা এটা করবেই। তারেক রহমান যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ সত্য।

আওয়ামী লীগ এখন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনীরঙ্গ, উপজেলায় ভোটডাকাতি, গুম-হত্যালীলায় মানবাধিকার বিপর্যয়ে দেশকে ঠেলা, বিদ্যুত-গ্যাস সংকটসহ নানান কিছুতে জেরবার আছে। গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য ভেতর-বাইরের চাপ মোকাবিলায় তারা হিমশিম খাচ্ছে। এ সময়ে বিতর্কের একটা উপাদান পেলে তারা সেটা নিয়ে ধুম্রজাল তৈরি করে জ্বলন্ত ইস্যুগুলো আড়ালের চেষ্টা করবেই। তারেক রহমানের বক্তব্যকে পুঁজি করে তারা সে চেষ্টাই করছে।
♣♣♣
বিএনপির ওয়েবসাইট-এ প্রথম না বলে জিয়াউর রহমানকে সপ্তম প্রেসিডেন্ট বলা হয়েছে। কাজেই তারেক রহমান যা বলেছেন এবং তাকে সমর্থন করে বেগম জিয়া যা বলেছেন তাতে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেছে, এমন কুযুক্তিও তুলেছেন কেউ কেউ।তাদের বলবো:

১. বিএনপি ওয়েবসাইট-কে তারা ইতিহাসের নির্ভুল পাঠ বলে মানছেন তাহলে?
২.ওই ওয়েবসাইটের তালিকাটি স্বাধীনতা অর্জনপরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধানদের।হানাদার কবলিত স্বদেশের নয়।
৩. আরো বলবো জিয়াউর রহমানই জনগণের সরাসরি ভোটে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান।




২৬ মার্চ ১৯৭১
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণাঃ
Dear fellow freedom fighters,
I Major Ziaur Rahman Provisional President and Commander in Chief of liberation Army do hereby proclaim independence of Bangladesh and appeal for joining our liberation struggle Bangladesh is Independence. We have waged war for the liberation of Bangladesh. Everybody is requests to participate in the liberation war with whatever we have. We will have to fight and liberate the country from the occupation of Pakistani Army. Inshallah, victory is ours.
প্রিয় সহযোদ্ধারা আমি মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও লিবারেশন আর্মির প্রধান হিসাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন জানাচ্ছি। বাংলাদেশ স্বাধীন। আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। আপনারা যে যা পারেন, সামর্থ অনুযায়ী অস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। আমাদেরকে যুদ্ধ করতে হবে এবং পাকিস্তান দখলদার বাহিনীকে দেশ ছাড়া করতে হবে। ইনশাল্লাহ, বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।
দ্বিতীয় ঘোষণাঃ ২৭ মার্চ ১৯৭১
I Major Ziaur Rahman Provisional President and Commander in chief of liberation Army do hereby proclaim on behalf of National Leader sheiekh Mejibur Rahman independence of the Bangladesh.
আমি মেজর জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও লিবারেশন আর্মির প্রধান হিসাবে জাতীয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনাতা ঘোষণা করছি।

আন্ত:জালে কুড়িয়ে

Your Reply

আমার সম্পর্কে আরও জানতে চাইলে,
ক্লিক করুন WadudBhuiyan.Com