দেশে ও দেশের বাহিরে থাকা সবাইকে ঈদ মোবারক


.

দেশে ও দেশের বাহিরে থাকা সবাইকে ঈদ মোবারক জানাচ্ছি। গাজার মানুষের জন্য মানবিক সমবেদনা জানাচ্ছি, কারণ তাদের জন্য এই ঈদ আসেনি। তাদের জন্য এই ঈদ মানে রক্তের সাগর পাড়ি দেয়া।

দেশের বাহিরে যারা ঈদ করছেন, আজকের দিনে তাদের মনটি ঈদ আনন্দের চেয়েও বিষাদ ও বেদনায় নীল হয়ে যায়। কারণ তারা আপনজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে এই সুখের দিনটিতে খুবই ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে আপনজনদের অভাব অনুভব করেন। আমি জীবনের তিনটি ঈদ তাদের সাথে করতে পেরেছি, একটি ইউরোপে, একটি আমেরিকায় এবং আরেকটি পবিত্র মক্কায়। তাই অতি কাছ থেকে তাদের ঈদের দিনের কষ্টদায়ক মানসিক অবস্থা বুঝতে অসুবিধা হয়নি। আজ তাদের জন্যও রইলো আমার ঈদ শুভেচ্ছা ও সমবেদনা।


অবশ্য আমাকেও নিজেও জীবনের অনেকগুলো ঈদ এমনি কষ্টের মধ্য দিয়ে করতে হয়েছে, যেমন জীবনের অনেকগুলো ঈদ রাজনৈতিক কারণে কারাগারে করতে হয়েছে আপনজনদের ছেড়ে। অনেকগুলো ঈদ আত্মগোপনে থেকে করতে হয়েছে যা কিনা প্রবাসকালীন ঈদ উদযাপনকারীদের চেয়েও কষ্টদায়ক।

কী দুর্ভাগ্য! ঠিক এবারের ঈদও আমাকে করতে হচ্ছে একা, একেবারেই একাকী। পরিবার, প্রিয়জন, সহকর্মী ও এলাকার মানুষকে ছেড়ে। কারণ সরকার মাত্র কিছুদিন আগেও আবার আমার নামে ১৩ বছর আগের ঘটনা দেখিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে রেখেছে, চেষ্টা করছে গ্রেফতার করতে। যদিওবা গত ৫ বছরই নানাভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে।

সব সময় দেখে আসছি, ঈদের আগে, ছাত্রদের পরীক্ষার আগে, ঈদের ও পরীক্ষার কারনে কোর্টগুলো রাজনৈতিক এবং সাধারণ মামলাগুলোতে মানবিক বিবেচনায় জামিন দিয়ে বছরের বড় ফেস্টিভ্যালগুলো পালন করার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু কী নির্মম! এই সরকারের ইচ্ছায় মাননীয় ও মহামান্য কোর্টগুলো আমাকে ও আমার মত এমন অনেককে জামিন দিয়ে ঈদটি উদযাপন করতে দিলো না প্রিয় মানুষগুলোর সাথে। দিলো না ঈদের সেই আনন্দঘন মোলাকাত করতে।
এতেও যদি সুখ পায়, ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে মনে করে এই অবৈধ সরকার, তবে সুখে থাকুন তথাকথিত প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের হোতারা। কিন্তু সেটি বেশিদিনের জন্যে নয়। ইনশ-আল্লাহ অতি নিকটে আপনাদের করুণ পরিনতি অপেক্ষারত।

আবারও সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।