পিন্টু মরে নাই, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে


.

আরেকটি জেল হত্যাকান্ড ঘটে গেল। পিন্টু মরে নাই, তাকে মেরে ফেলা হয়ছে। প্রায় ৮ বছর পিন্টু কারাগারে। তা না হলে হয়তো পিন্টুকে আরো আগেই ইলিয়াস আলীর পরিণতি বরণ করতে হতো। কারণ অনেক। তার মধ্যে সংসদে পিন্টুর একটি বক্তব্যই কাল হয়েছে। তখন আমরা ক্ষমতায় ছিলাম। সংসদে পিন্টুর সে দিনের বক্তব্যের পর আমরা অনেকে ধারনা করেছিলাম, যদি আবার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে তাহলে পিন্টুর বেঁচে থাকা কঠিন হবে! কারণ চরিত্রগতভাবে আওয়ামীলীগ এরকমই। ইলিয়াস আলী ও সালাউদ্দিনের ক্ষেত্রেও এরকম কিছু কারণ আছে, মহা শক্তিধর ব্যক্তির ক্ষোভ আছে। আমিও এর বাহিরে নই, আল্লাহ রহম করো!

সিটি নির্বাচনের কারচুপি নিয়ে দেশে বিদেশের আলোচনা অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্যও এই সময়টা বেছে নেয়া হয়েছে কিনা, পিন্টু হত্যার জন্য তাও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে!

পিন্টুর সাথে শেষ দেখা হয়েছিল ঢাকা কারাগারে, অনেকে বলে পিন্টু খুব মেজাজি, তার প্রতিপক্ষরা বলতো খারাপ মানুষ। আমি কাছ থেকে তাকে যা দেখেছি, কখনওই তাকে খারপ মানুষের অন্তর্ভূক্ত করা যায় না। সে ছিলো অন্যায়ের প্রতিবাদকারী, কেউ কাউকে জুলুম করলে পিন্টু আক্রান্ত ব্যক্তির পক্ষে লড়াই করতেন, সে যে হোক না কেন। তার এমন গুণের ছোট্ট একটা উদাহরণ দিচ্ছি, আমরা তখন ঢাকা জেলে, কারাগার কতৃপক্ষ প্রতিদিনই আমাদের পঁচা মাছ খাওয়াতো। এ অবস্থায় অতিষ্ট হয়ে পিন্টু একদিন জেল সুপারকে ডেকে এনে বললো, আমার নাম পিন্টু, জানেনতো? জেল সুপার বললো, জ্বি, স্যার। পিন্টু আবার বললো, আপনার কারাগার আমার লালবাগ এলাকার মধ্যে, এটা মনে রাখবেন। আর এতো ভিআইপি বন্দীকে আপনি প্রতিদিন পঁচা মাছ খাওয়াবেন, তা বরদাশত করা হবে না। কথাটা মনে রাখবেন। এরপর থেকে আর কোনদিন আমাদেরকে অন্ততপক্ষে ঢাকা জেলে পঁচা মাছ খেতে হয়নি। জেলখানায় পিন্টু সারারাত আমল করতো, সারাদিন কোরআন পাঠ, নামাজ ও তছবি জপতো। আমরা তা দেখে অভিভূত হয়ে পড়তাম।

ঢাকা জেলের পরে আর পিন্টুকে দেখি নাই, তাকে নিয়ে যায় অন্যান্য জেলে। আমি রংপুর কারাগারে গিয়ে শুনি, কয়েকদিন আগেই পিন্টুকে অন্য কারাগারে নিয়ে গেছে। লালমনিরহাট কারাগারে যাওয়ার পর, জেলার আমাকে বললো, স্যার, আপনার এই কক্ষেই নাসির উদ্দিন পিন্টু স্যার ছিলো, তিনদিন আগে অন্য জেলে নিয়ে গেছে।

পিন্টু তোমাকে এরপর আর দেখি নাই প্রায় ৮ বছর। ভালো থেকো পরপারে এই কামনাই করি। জানি না অন্য জেলগুলোতে যেমনি অল্পের জন্য দেখা হয়নি, তেমনি যেন পরপারেও না হয়! আমিন।