আদিবাসী দিবস নিয়ে আমার কিছু কথা


.

গতকাল আদিবাসী দিবস গেলো। খুব ধুমধাম করে গত কয়দিন আদিবাসী নামক দিবসটি উদযাপন হয়েছে পাহাড়ে এবং মিডিয়ায়। গত দু' দিন মিডিয়াকে প্রায় দখলেই রেখেছে এই দিবসটির হেড লাইন ও কালারফুল সব ক্যামেরা চিত্র।

টকশোগুলো ছিল সরব, তর্কিত কিছু ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে। চ্যানেলগুলো খুব দৌঁড়াচ্ছে কার আগে কে বেশি প্রোগ্রাম দেখাতে পারে দিবসটির! আমার আলোচ্য বিষয় এটি নয়, এ বিষয়ে আমি কোন বিতর্ক করতে এই পোস্টের অবতারণা করি নাই।

আমার বিষয় হল পাহাড়ের এক সময়ের গেরিলা নেতা, স্বশস্ত্র সংগঠন শান্তিবাহিনী বা পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহিত সমিতির সভাপতি, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় দীর্ঘকাল ধরে নিয়োজিত চেয়ারম্যান জনাব সন্তু লারমা, ইউপিডিএফ ও জেএসএস (সংস্কার) নামে অস্ত্রধারী সংগঠনগুলোর নেতাদের দেখলাম আদিবাসী দিবস নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে। কিন্তু ১৯৯৭ সালের আগে বা এর কিছুকাল পরেও কিন্তু এই নেতারা আদিবাসী নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেন নাই। আদিবাসী দিবস পালন তো দূরের কথা উনারা কোনদিন আদিবাসী ছিল, তা মনেও করেন নাই, দাবিও করেন নাই। উনারা নিজেদেরকে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা, ইত্যাদি নামেই ডাকতে পছন্দ করতেন। এবং উপজাতি বা বিশেষ ক্ষেত্রে 'জুম্ম' জাতি দাবি করতে বেশি গর্ববোধ করতেন। কিন্তু হঠাৎ করে কি এমন ঘটনা এবং কারণ ঘটে গেল যে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে উল্লেখিত নামগুলো বাতিল করে দিয়ে এবং ইতিহাসকে পদদলিত করে আদিবাসী নামকরণে ওনারা একযোগে লাফিয়ে উঠলেন? সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে নেমে গেলেন কিছু বিশেষ বিশেষ সুশীল, মিডিয়া, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও সুশাসক। বিষয়টায় মানুষের মনে প্রশ্ন জাগাটা খুবই স্বাভাবিক।

১৯৯৭ সালের ০২ ডিসেম্বর আওয়ামী সরকারের সাথে অস্ত্রধারী সংগঠনের নেতা সন্তু লারমা উপজাতীয়দের পক্ষে পার্বত্য চুক্তি (শান্তি চুক্তি) তে স্বাক্ষর করেন। উল্লেখ্য, সন্তু বাবু 'আদিবাসী' দের পক্ষে নয়, 'উপজাতীয়দের' পক্ষেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এখানে আমি তা তুলে ধরতে চেয়েছি মাত্র।

আসুন দেখে নেওয়া যাক ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বরে সন্তু বাবুর স্বাক্ষরিত চুক্তির মুখবন্ধে কী আছে। চুক্তির প্রথম পাতায় (ক) সাধারণ- এর ক্রমিক নং-১-এ উল্লেখ আছে "উভয় পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল হিসাবে বিবেচনা করিয়া এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ এবং এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন অর্জন করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করিয়াছেন।"

(খ) এর ক্রমিক ১-এ উল্লেখ রয়েছে, "পরিষদের আইনে বিভিন্ন ধারায় ব্যবহৃত 'উপজাতি' শব্দটি বলবৎ থাকিবে।"




আরো উল্লেখ্য এরশাদ সরকারের সাথে ২১ সদস্য বিশিষ্ট উপজাতীয় নেতাদের একটি কমিটি উপজাতীয়দের পক্ষে "স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন ১৯৮৯"-এও উপজাতি শব্দ ও উপজাতীয়দের স্বার্থ সংরক্ষনের লক্ষে (কথাটি লিখিত) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সকল উপজাতীয় নেতা সহ সন্তু বাবুর কাছে অপরাপর সকল প্রশ্ন জমা রেখে আজ আমার একটি প্রশ্ন, মাত্র কয় বছর আগে পার্বত্য চুক্তিতে উপজাতীয়দের অধিকার সংরক্ষণে স্বাক্ষর করে এখন আদিবাসী দাবি করছেন কীভাবে? তবে কি তারা পার্বত্য চুক্তিকে অস্বীকার করছেন? পার্বত্য চুক্তি কি ভুল ছিল?

অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নাই মর্মে বার বার নোটিশ ও প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। কিন্তু মিডিয়া ও কিছু কিছু সংগঠন কিভাবে সরকারী প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে বার বার এই শব্দ ব্যবহার ও আদিবাসী নামে দিবস উদযাপন করছে? নিশ্চয়ই সরকার এখানে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে, নচেৎ এ বিষয়ে মিডিয়া এত বাড়াবাড়ি করে কি করে! কারণ, ইতোমধ্যেই যে সকল মিডিয়া সরকারের অপছন্দের কাজ করেছে, সে সকল মিডিয়াকে বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা কী এবং তাদের প্রজ্ঞাপনের অবস্থানই বা কী? আবারও তা পরিস্কার করা জরুরী।


Your Reply

আমার সম্পর্কে আরও জানতে চাইলে,
ক্লিক করুন WadudBhuiyan.Com