Showing posts with label ফেসবুক. Show all posts

সামাজিক গণমাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের ব্যবহার কতোটুকু করছি আমরা?


.

ইদানিং মনে হচ্ছে আমাদের অনেকের কারনে ফেসবুক এর গুরুত্বটা একেবারে হালকা হয়ে যাচ্ছে। যদিও গত বছর আমি ফেসবুকের গুরুত্ব নিয়ে একটা বড় লেখা লিখেছিলাম। আসলে ফেসবুক হতে পারে অনেক গুরুত্বপুর্ন একটি মাধ্যম। কিন্তু অনেক বন্ধু এটার অপব্যবহার করছে।

দেখা যায় কেউ কেউ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কী কী করেন এর একটি ধারাবাহিক বর্ননা দিতে থাকেন, যা দেখে বা পড়ে অনেকের খুব বিরক্ত লাগে, অনেকে ফেসবুক থেকে ব্যাক করছে। অনেকেই যেমন সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করার একটা ছবি দিয়ে লিখেন, আমি ব্রাশ করছি! কী দিয়ে নাস্তা খেলেন তাও লিখেন। আবার লিখেন আমি এখন ওই জায়গায় আছি, একটু পর ওই জায়গায় যাবো। হায়! আজ কাজের ব্যস্ততায় ভাত খেতে পারি নাই। আমি এখন ঘুমাতে যাচ্ছি। পরদিন ঘুম থেকে উঠে গতরাতে কী কী স্বপ্নে দেখলেন তাও আপলোড দেন। মনে হয় বাথরুমে গেলে কী কী করেন পারলে তাও দিয়ে দিবেন ফেসবুকে। এটা ঠিক নয়। এ অনুচিৎ। এটা অসৌজন্যতা।


আমাদের মনে রাখা উচিৎ, সামাজিক এ গনমাধ্যমে কী কী যেতে পারে। হ্যাঁ, ব্যক্তিগত অনেক কিছু যেতে পারে কিন্তু এমন একান্ত ব্যক্তিগত বা অতি নগন্য এমন কিছু দেয়া ঠিক নয়। কোনো ভাবেই সীমা অতিক্রম করা শোভন নয়। আমাদেরই উচিৎ ফেসবুককে গুরুত্বপূর্ন মাধ্যমে পরিণত করে তোলা, এতে সমাজ অনেক উপকৃত হবে। যেমন দেখুন, কালকের লঞ্চডুবির ভিডিও শুধুমাত্র একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীই সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছে, যা টিভিগুলো ব্যাবহার করেছে। সে জন্য এর অপব্যবহার না করে যত্নবান হওয়া উচিৎ। বন্ধুরা, এটাকে মূল্যহীন না করে মূল্যবান করে তুলতে পারলে সমাজ ও আমরাই লাভবান হবো।

তাই গুরুত্ব বহন করে এমন কিছু ফেসবুকে দেয়া দরকার, যা দেখলে মানুষ ও বন্ধুরা জেনে উপকৃত হবেন, খুশি হবেন, হবেন আনন্দিত। এমন কিছু দেয়া উচিৎ, যা পেয়ে ফেসবুকের অন্য বন্ধুরা জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। যা দিবেন তা দেখে, পড়ে যেন সবাই মজা পায় বা যা দেখার সুযোগ এর আগে বন্ধুদের হয়নি। যা দেখে পুলকিত হবেন, এমন বিষয়গুলো ফেসবুকে আনা দরকার। যা খুশি তা দেয়া ঠিক নয়। বা একান্ত ব্যক্তিগত বা অতি হালকা বিষয়-আসয় তুলে ধরার আগে একবার চিন্তা করুন আরো গুরুত্বপুর্ন কি দেয়া যায়। ফেসবুক নিয়ে একটি জনপ্রিয় শ্লোগান আছে, 'Use Facebook for a cause', চলুন কোনো গুরুত্বপূর্ন কাজে ফেসবুককে ব্যাবহার করি আমরা।