বিখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদের মিসির আলি আমাকে এসে বললো, উঠো, উঠো। যাবেনা?
আমি বললাম কোথায়?
আরে তুমি না বলছিলে আজ বৃন্দাবন যাবে? যেখানে তোমার ভালোবাসাগুলো তোমার অধীর অপেক্ষায় থাকবে? তুমি না গেলে তাদের কী হবে? তারা কী করবে? তারা না তোমাকে বলেছিল। আজ তুমি না ফিরলে ফর এভার আর তাদের সাথে তোমার দেখা হবে না?
আমি বললাম কোথায়?
আরে তুমি না বলছিলে আজ বৃন্দাবন যাবে? যেখানে তোমার ভালোবাসাগুলো তোমার অধীর অপেক্ষায় থাকবে? তুমি না গেলে তাদের কী হবে? তারা কী করবে? তারা না তোমাকে বলেছিল। আজ তুমি না ফিরলে ফর এভার আর তাদের সাথে তোমার দেখা হবে না?
আমি চোখ মুছতে মুছতে উঠে বললাম, তাদের বলেছিলামতো আসবো। তবে এখনই যেতে হবে কেন? অন্যদিন, অন্য সময় গেলে হয় না?
মিসির আলি বললো। না, আজ, এখনি যেতে হবে। না গেলে যে ওরা অপেক্ষায় থাকবে!
চারিদিকে তাকিয়ে দেখলাম ভীষণ ঝড়োমেঘ। ঝড়ঝাপটা। অনেক বাতাস। মনে হচ্ছে সব কিছু কালো অন্ধকারে ডুবিয়ে দিয়েছে। এখনি সব ভেঙ্গেচুরে তচনচ করে দিয়ে যাবে। হঠাত মনে হল। আজতো সাইক্লোন বুলবুল হামলা করার কথা। দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯-১০ নং সতর্ক সংকেত ঘোষনা করেছে। ১০টা যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করেছে। মনে হয় বুলবুল হামলা করেছে। তাহলে কিভাবে আজ আমার ভালোবাসারা না জানি কোন অবস্থাসংকট মোকাবিলা করছে 😢!
এদিকে মনে মনে ভাবছি বেটারা সাইক্লোনের আর কোন নাম খুজে পেলো না? কাজি নজরুল ইসলামের প্রিয় শব্দ বুলবুলের নামেই চালিয়ে দিল! তারা আর কোন নাম দিতে পারলো না? কবির একটি ভালো অর্থের শব্দকে তারা ভয়ংকর তাণ্ডবলীলার নামকরণ করলো? মনটা খারাপ হয়ে গেল।
এদিকে মনে মনে ভাবছি বেটারা সাইক্লোনের আর কোন নাম খুজে পেলো না? কাজি নজরুল ইসলামের প্রিয় শব্দ বুলবুলের নামেই চালিয়ে দিল! তারা আর কোন নাম দিতে পারলো না? কবির একটি ভালো অর্থের শব্দকে তারা ভয়ংকর তাণ্ডবলীলার নামকরণ করলো? মনটা খারাপ হয়ে গেল।
যাক, এরমধ্যে দেখা যাচ্ছে, পরিবেশ একটু হালকা হচ্ছে। বাতাস কমে যাচ্ছে। আকাশে আলো উকি মারছে। চারিদিকে কিছু হাহাকার শুনা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে চারিপাশ শুনশান নিরব। অন্যদিকে আবার মিসির আলির চেঁচামেচি। চলো, চলো।
ভেবে দেখলাম পরিস্থিতি যাই হোকনা কেন। এই অবস্থায় আমার যাওয়া জরুরি। ভাগ্যিস মিসির আলি আমাকে জাগিয়ে তুলেছে। না জানি বৃন্দাবনে আমার ভালোবাসারা কেমন আছে? কি করছে? নাকি বুলবুল তাদের কোন ক্ষতি করে পেলেছে! এসব চিন্তা করতে করতে তাড়াতাড়ি যাত্রা শুরু করলাম।
যাওয়ার পথে দেখা হল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু শাহজাদির সাথে। সে কি বিষন্নতা তার সমস্ত অবয়বে! যে কিনা এক সময় এত অপরূপ সুন্দরি ছিল। ক্যাম্পাসে সে যখন হেটে যেতো তখন এমন কোন ছাত্র ছিলনা তার দিকে তাকিয়ে থাকতোনা।
অথচ আজ তাকে এতটা বিদগ্ধ দেখাচ্ছে! আমি যেন তার দিকে তাকাতেই পারছিনা।
কী হয়েছে? জানতে চাইলে শাহজাদি বললো সাইক্লোনে তার স্বজনদের হারিয়ে ফেলেছে।
এখন সে তাদেরকে পথে পথে খুঁজে বেড়াচ্ছে। আর আহাজারি করে বিলাপ করছে। বলছে তোমরা আমার প্রিয়জনদের খুঁজে দাও। এনে দাও। এসব বলে, সে কি আর্তনাদ তার।
বারে বারে মন চাইছিল শাহজাদিকে সাথে নিয়েই আসি। জোর করে হলেও নিয়ে আসি। সে এখন কী করবে? কোথায় যাবে? কোথায় খুঁজবে? তাই বার বার জোর করে তাকে বলেও ছিলাম। তুমি চলো আমাদের সাথে। আমার ভালোবাসাদের কাছে।
কিন্তু কিছুতেই সে রাজি হল না। সে তার হারানো প্রিয়জনদের খুঁজছেতো, খুঁজছেই।
আমরা ওকে কোন শান্তনা দিতে পারিনি। তাকে যে একটু সময় দেবো। তার পাশে দাঁড়াবো, তাও পারিনি।
কারণ আমার যে আরেক কঠিন তাড়া। কেমন আছে আমার ভালোবাসারা বৃন্দাবনে? এই ভাবনাগ্রস্ত নেশা নিয়ে শাহজাদিকে একা ফেলে রেখে আবার যাত্রা শুরু করলাম বৃন্দাবনে। যেতে যেতে পথে পথে আরো কতকিছুর সাক্ষাত হলো। তা আর বলে শেষ করা যাবেনা।
অবশেষে বৃন্দাবনে পৌছে দেখি চারিদিকে এক ভয়াবহ নিরবদ্য নিরবকাশ! যা দেখেই শরীরের সমস্ত পশমগুলো দাঁড়িয়ে গেল। একি দেখছি। আমার ভালোবাসাদের আশ্রয়স্থলের নিশানাও খুঁজে পেলামনা। চারিদিকে অনেক খুঁজেও তাদের সন্ধান পেলাম না। আশেপাশের দুএকজনকে পেয়ে জানতে চাই, তোমরা কি দেখেছো আমার ভালোবাসাদের? কোথায় আমার ভালবাসারা? কোথায় আমার প্রিয়তমারা?
অবশেষে একজন বললো, গভীর রাত পর্যন্ত তারা তোমার অপেক্ষায় ছিলো কিন্তু শেষ রাতে বুলবুলের আঘাতে, কঠিন এক ঝড়োমেঘ তাদেরকে তুলে নিয়ে গেছে। তারা হারিয়ে গেছে! শুনে আমার নিথর দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
মিসির আলি আমাকে তুলে আনার চেষ্টা করছেতো করছেই। আমি উঠতে পারছিনা। আমি বাকরূদ্ধ। মিসির আলি আমাকে টানছে আর টানছে।
মিসির আলির হেঁচকা টানে চোখ খুলে জানালায় তাকিয়ে দেখি। মৃদু বাতাসে পর্দাগুলো দোল খাচ্ছে। পর্দার ফাঁকেফাঁকে দেখছি আকাশে সুন্দর একটা আলো ছড়াচ্ছে। যেন এই বুঝি অন্ধকার শেষ হয়ে কালচে - নীল - লাল রং এর মিশেলে চমৎকার একটি দিনের আলো উঠে আসছে। উঠে বসলাম। ভাবছি আমি এতক্ষণ কি দেখলাম।
আসলে আমার বৃন্দাবনের ভালোবাসারা আর লেখকের অতি জনপ্রিয় চরিত্র মিসির আলি আমাকে এতক্ষণ একটি স্বপ্নে, স্বপ্নঘোরের মধ্যে তাড়াচ্ছিল।
ভেবে দেখলাম পরিস্থিতি যাই হোকনা কেন। এই অবস্থায় আমার যাওয়া জরুরি। ভাগ্যিস মিসির আলি আমাকে জাগিয়ে তুলেছে। না জানি বৃন্দাবনে আমার ভালোবাসারা কেমন আছে? কি করছে? নাকি বুলবুল তাদের কোন ক্ষতি করে পেলেছে! এসব চিন্তা করতে করতে তাড়াতাড়ি যাত্রা শুরু করলাম।
যাওয়ার পথে দেখা হল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু শাহজাদির সাথে। সে কি বিষন্নতা তার সমস্ত অবয়বে! যে কিনা এক সময় এত অপরূপ সুন্দরি ছিল। ক্যাম্পাসে সে যখন হেটে যেতো তখন এমন কোন ছাত্র ছিলনা তার দিকে তাকিয়ে থাকতোনা।
অথচ আজ তাকে এতটা বিদগ্ধ দেখাচ্ছে! আমি যেন তার দিকে তাকাতেই পারছিনা।
কী হয়েছে? জানতে চাইলে শাহজাদি বললো সাইক্লোনে তার স্বজনদের হারিয়ে ফেলেছে।
এখন সে তাদেরকে পথে পথে খুঁজে বেড়াচ্ছে। আর আহাজারি করে বিলাপ করছে। বলছে তোমরা আমার প্রিয়জনদের খুঁজে দাও। এনে দাও। এসব বলে, সে কি আর্তনাদ তার।
বারে বারে মন চাইছিল শাহজাদিকে সাথে নিয়েই আসি। জোর করে হলেও নিয়ে আসি। সে এখন কী করবে? কোথায় যাবে? কোথায় খুঁজবে? তাই বার বার জোর করে তাকে বলেও ছিলাম। তুমি চলো আমাদের সাথে। আমার ভালোবাসাদের কাছে।
কিন্তু কিছুতেই সে রাজি হল না। সে তার হারানো প্রিয়জনদের খুঁজছেতো, খুঁজছেই।
আমরা ওকে কোন শান্তনা দিতে পারিনি। তাকে যে একটু সময় দেবো। তার পাশে দাঁড়াবো, তাও পারিনি।
কারণ আমার যে আরেক কঠিন তাড়া। কেমন আছে আমার ভালোবাসারা বৃন্দাবনে? এই ভাবনাগ্রস্ত নেশা নিয়ে শাহজাদিকে একা ফেলে রেখে আবার যাত্রা শুরু করলাম বৃন্দাবনে। যেতে যেতে পথে পথে আরো কতকিছুর সাক্ষাত হলো। তা আর বলে শেষ করা যাবেনা।
অবশেষে বৃন্দাবনে পৌছে দেখি চারিদিকে এক ভয়াবহ নিরবদ্য নিরবকাশ! যা দেখেই শরীরের সমস্ত পশমগুলো দাঁড়িয়ে গেল। একি দেখছি। আমার ভালোবাসাদের আশ্রয়স্থলের নিশানাও খুঁজে পেলামনা। চারিদিকে অনেক খুঁজেও তাদের সন্ধান পেলাম না। আশেপাশের দুএকজনকে পেয়ে জানতে চাই, তোমরা কি দেখেছো আমার ভালোবাসাদের? কোথায় আমার ভালবাসারা? কোথায় আমার প্রিয়তমারা?
অবশেষে একজন বললো, গভীর রাত পর্যন্ত তারা তোমার অপেক্ষায় ছিলো কিন্তু শেষ রাতে বুলবুলের আঘাতে, কঠিন এক ঝড়োমেঘ তাদেরকে তুলে নিয়ে গেছে। তারা হারিয়ে গেছে! শুনে আমার নিথর দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
মিসির আলি আমাকে তুলে আনার চেষ্টা করছেতো করছেই। আমি উঠতে পারছিনা। আমি বাকরূদ্ধ। মিসির আলি আমাকে টানছে আর টানছে।
মিসির আলির হেঁচকা টানে চোখ খুলে জানালায় তাকিয়ে দেখি। মৃদু বাতাসে পর্দাগুলো দোল খাচ্ছে। পর্দার ফাঁকেফাঁকে দেখছি আকাশে সুন্দর একটা আলো ছড়াচ্ছে। যেন এই বুঝি অন্ধকার শেষ হয়ে কালচে - নীল - লাল রং এর মিশেলে চমৎকার একটি দিনের আলো উঠে আসছে। উঠে বসলাম। ভাবছি আমি এতক্ষণ কি দেখলাম।
আসলে আমার বৃন্দাবনের ভালোবাসারা আর লেখকের অতি জনপ্রিয় চরিত্র মিসির আলি আমাকে এতক্ষণ একটি স্বপ্নে, স্বপ্নঘোরের মধ্যে তাড়াচ্ছিল।


