কবি শামসুর রাহমানের একটি কবিতার বইয়ের নাম ‘উদ্ভট উঠের পিঠে চলেছে স্বদেশ’। আর সাংবাদিক হেদায়েত হোসেন মোরশেদ লিখেছিলেন ‘গাঁজার নৌকা পাহাড় দিযে যায়’। গাঁজাখোররা ইচ্ছা করলে পানির বদলে নৌকা পাহাড় দিয়েও চালিয়ে নিতে পারেন। মরহুম এই দুই বরেণ্য ব্যক্তি বেঁচে থাকলে দেশের চালচিত্র দেখে এখন কি লিখতেন তা বলাইবাহুল্য।
চরম অনিশ্চয়তায় মানুষ। সামনে কি হবে কেউ জানেন না। সংঘাত-সংঘর্ষ, পুলিশের গুলি এবং প্রার্থীবিহীন পাতানো নির্বাচন বাতিলের দাবির আন্দোলনে নিত্যদিন মানুষ মরছে। রাজধানী থেকে অধিকাংশ জেলা বিচ্ছিন্ন। জন প্রতিরোধের ভয়ে ২১টি জেলার ডিসি, এসপিকে পুলিশের প্রহরায় ঢাকায় আসতে হয়েছে। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার অভাবে দেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটের দিন পর্যবেক্ষণে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৫ জানুয়ারির অনুষ্ঠেয় ভোটে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। আরপিও ভঙ্গ করে সমঝোতার মাধ্যমে ১৫৫টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে জনপ্রতিনিধি। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা গণরোষের ভয়ে নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারছেন না। যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের অধিকাংশ হেলিকপ্টারে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার ইংগিত দিয়েছে। সরকারের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীরা পুলিশ প্রহরায় চলাফেরা করতে ভয় পাচ্ছেন। এ অবস্থায় রোমের শাসক নিরোর বাঁশি বাজানোর মতো প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ নির্বাচন করে ফেলার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য নির্বাচন করতেই হবে। বিক্ষুব্ধ মানুষকে ঠেকাতে যৌথ বাহনীর (র্যাব-পুলিশ-বিজিবি) ওপর ভরসা করতে না পারায় এখন দেশপ্রেমী সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানোর চেষ্টা করছেন।
৫ জানুয়ারীর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। নির্বাচন প্রতিহতের বিরোধী দলের অবরোধে অংশ নিয়ে সারাদেশ কার্যত অচল করে দেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবারও লালমনির হাটে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেনের সমাবেশস্থলে অর্ধশত মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। বিক্ষুব্ধ জনতাকে গ্রেফতার করতে মাঠে নেমেছে যৌথবাহিনী। যৌথ বাহিনীর ভয়ে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামের কয়েকটি গ্রাম পুরুষশূন্য। নিলফামারীতে সরকারদলীয় এমপি আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গী ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে অবরোধকারী ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার সংঘর্ষে ৫ জন মারা গেছে। এ ঘটনার পর মারমুখী সরকার যৌথবাহিনী নামিয়ে গণহারে গ্রেফতার করছে। এতে করে কয়েকটি গ্রাম এখন পুরুষশূন্য। এমনকি পুলিশের ভয়ে পলাতক থাকায় স্থানীয় দু’তিনটি মসজিদে আজান পর্যন্ত দেয়ার লোক ছিল না। আবার যে সব মসজিদে আজান দেয়া হয় গ্রামের পুরুষরা পলাতক থাকায় সে সব মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়ার লোক ছিল না গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে একই অবস্থা হয়েছিল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে)। সাতক্ষীরায় প্রশাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন। সেখানে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালিয়ে অবরোধকারী এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে গণহারে গ্রেফতার করছে। যৌথবাহিনীর এ অভিযানে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডারদের সঙ্গে রেখেছে। এমনকি যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময়ও সেখানে বিক্ষুব্ধ জনতা আওয়ামী লীগের একজন নেতাকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণে অস্বীকার করায় সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে আটক করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে পাকিস্তানী কায়দায়। ’৭১ এর যুদ্ধের সময় ২৫ মার্চ কালোরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যেভাবে গ্রেফতার করে করাচি নিয়ে যাওয়া হয়; ঠিক সেই কায়দায় বারিধারার বাসা থেকে এরশাদকে আটক করে সিএমএইচ-এ নিয়ে যাওয়া হয়। এরশাদ বলছেন আমি সুস্থ; অথচ সরকার বলছে অসুস্থ। এরশাদকে বন্দি রেখে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে নেয়ার জন্য নানা ধরনের ছলচাতুরী করা হচ্ছে। নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। অথচ হিটলারি কায়দায় জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মুসা বলেছেন, বর্তমান সরকার কার্যত ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। ঢাকা থেকে সারাদেশ বিচ্ছিন্ন। মোঘল স¤্রাটদের মতো শেখ হাসিনার সরকার শুধু রাজধানী নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এ সরকারকে বলা উচিত গণপ্রজাতন্ত্রী ঢাকা সরকার। সরকারের নির্লিপ্ততা এবং নির্বাচন কমিশনের গোঁয়ার্তুমিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে গতকালও বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, সরকার দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাদের কারণে দেশের সব রীতি-নীতি আজ বিশ্ব দরবারে নতজানু হয়ে পড়ছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে। সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আটকে রাখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে সেনাবাহিনীরও বদনাম হচ্ছে। অনেক রক্তের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। যে কোনো জিনিসের জন্ম রক্ত ছাড়া হয় না। রক্তই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, ১৫৪ আসনে জনগণের ভোট দেয়ার অধিকার নেই। এটি কোন ধরনের নির্বাচন? এ ধরনের নির্বাচন মানুষ চায় না। জনগণের ভোট ছাড়া জনপ্রতিনিধি হয় কেমন করে?
বাংলাদেশের এই ভয়ঙ্কর অবস্থায় দেশের মানুষের পাশাপাশি গোটা বিশ্ব উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারানকোর দৌড়ঝাপ বিশ্ববাসী দেখেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাসহ দেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বর্তমানের অবস্থাকে ’৭১ এর গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করেছে। বিশ্বের প্রভাবশালী মিডিয়াগুলোতে বাংলাদেশের সংঘাতময় অবস্থা তুলে ধরে নিউজ হচ্ছে নিত্যদিন। কেউ বলছে ‘গৃহযুদ্ধের কবলে দেশ’, কেউ লিখছে ‘বাংলাদেশ জ্বলছে’ কেউ লিখছেন ‘বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে’ ইত্যাদি। বিদেশীদের এ সব আশঙ্কা আতঙ্কের প্রতিও খেয়াল নেই নির্বাচন কমিশনের। সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন ‘পণ’ করেছে তারা নির্বাচন করেই ছাড়বেন। গতকাল নির্বাচন কমিশনে নির্বাচনে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিযে বৈঠক হয়। আগের দিন এ বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক জেলায় কর্মরত ডিসি-এসপি আসতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেয়ায় বৈঠক একদিন পেছানো হয়। এ বৈঠকেও ২১ জেলার ডিসি-এসপি পুলিশ প্রহরায় ঢাকায় আসেন। বৈঠকে ডিসি এসপিরা তাদের জেলাগুলোর জনবিক্ষোভ ও নৈরাজ্যকর অবস্থা তুলে ধরেন। এমনকি একাধিক ডিসি নৈরাজ্যকর এ অবস্থায় নির্বাচন করা কঠিন হবে বলেও জানান। তারপরও সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ জানান, দেশের নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। যেসব জেলায় পরিস্থিতি খারাপ ছিল সেগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এই সিইসি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানোর জন্য অস্থির পয়ে পড়েন। বৈঠকে সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি জানান, শীতকালীন মোহড়া চলছে। তারা আলাপ-আলোচনা করে আইএসপিআর-এর মাধ্যমে জানাবেন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে কি হবে না। কিন্তু সিইসি দেশবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ জানুয়ারী পর্যন্ত সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে মেজিষ্ট্রেটও দেয়া হবে। অথচ কয়েকদিন আগেও কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন পড়বে না। র্যাব পুলিশই নির্বাচনী আইনশৃংখলা রক্ষার জন্য যথেষ্ট।
অবরোধের কারণে কক্সবাজার, ফেনি, লক্ষ্মিপুর, গাইবান্ধা, নেয়াখারী, রংপুর, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, পাবনাসহ কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ অবস্থা। নির্বাচনে প্রতিহতের দাবির অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা কার্যত প্রশাসন ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দিয়েছে। অনেক যায়গায় আইন শৃংখলা বাহিনীকে বিক্ষুব্ধ জনতাকে সমঝে চলতে হচ্ছে। গতকালও সিরাজগঞ্জ-রাজশাহী সড়কে জনতার প্রতিরোধে র্যাবকে পিছু হটতে হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের এ মারমুখী অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান বুঝতে পেরে সরকারের নীতি নির্ধারকরা গলার স্বর নীচু করছেন। প্রকাশে নির্বাচন করবো, নির্বাচন কেউ ঠেকাতে পারবে না ইত্যাদি বলা হলেও বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার কথা বলছেন। ভিতরে ভিতরে বিরোধী দল যাতে সংলাপে আসে সে চেষ্টা করছে। সে জন্যই মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু যখন বলেন, ৫ বছরের জন্য নির্বাচন হচ্ছে। ২০১৯ সালের একাদশ নির্বাচনের জন্য বিরোধী দল সংলাপ করতে পারে। তখন আরেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ইনুর বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেন, ইনু আওয়ামী লীগের কেউ নন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরই নির্বাচনের জন্য আলোচনা করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একই কথা বলেছেন। কিন্তু বিরোধী দল সরকারের এসব বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলে অবিহিত করেছে। অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, সরকার বিরোধী দলকে সংলাপের ‘টোপ’ দিয়েছে। বিরোধী দল এই টোপ গ্রহণ করবে না। এ প্রসঙ্গে বিএনপির এক নেতা বলেন, কিসের সংলাপ? বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে কারাগারে নেয়া হয়েছে। পার্টি অফিস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জুলুম নির্যাতন চলছেই। সরকারের সংলাপের প্রস্তাব ‘মানুষকে ধরে হাতপা বেঁধে পানিতে ফেলে দিয়ে সাতরানোর’ নির্দেশ দেয়ার মতো ঘটনা। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কেউ যেমন পানিতে সাঁতরাতে পারেন না তেমনি চলমান অবস্থায় সরকারের সঙ্গে কোনো সংলাপ হতে পারে না। ১৮ দলের অন্যতম নেতা জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেছেন, দিল্লীর কৃতদাস আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সমঝোতার কোনো আলোচনা হবে না। ফয়সালা হবে রাজপথে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক ও সুজনের সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সিইসির প্রতি প্রশ্ন রেখেছেন, এধরণের নির্বাচনে সেনাবাহিনী কেন?
পাতানো নির্বাচন থেকে সরকার সরে না আসায় বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ কার্যত বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিরোধী দলের অবরোধে সারাদেশ থেকে ঢাকা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় শিল্প-বাণিজ্যের ত্রাহি অবস্থা। ব্যবসায়ী এবং অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়বে। ব্যবসায়ী শিল্পপতিরা পথে বসবে। বিদেশীরা জানিয়ে দিয়েছে এধরনের পাতানো নির্বাচন হলে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠানো হবে না। দেশের বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পেশাজীবীরা বলছেন সরকার যদি পাতানো নির্বাচন থেকে সরে না আসে এবং বিরোধী দল যদি এভাবে আবরোধ-হরতাল কর্মসূচি অব্যহত রাখে তাহলে আফ্রিকার দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের অবস্থা হতে পারে। কারণ জাতিসংঘ সরকারের একগুয়েমিতে বিরক্ত এবং আশাহত। কোনো কথাই যেন নির্বাচন কমিশনের কর্তা ব্যাক্তিদের কানে পৌঁছাচ্ছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদের না আসা সম্পর্কে সিইসি গতকাল বলেছেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কে আসবে কে আসবে না সেটা তাদের ব্যাপার। তবে যারা পর্যবেক্ষণ করবেন তাদের নিরাপত্তা দেয়া হবে। দেশের জনগণকে অভয় দিচ্ছি আপনারা নির্বিগ্নে ভোট দেবেন। সিইসি’র এই কথায় কী জনগণের আস্থা আছে? ভোটের সময় সিইসি ভোটারদের নিরাপত্তা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন কিন্তু এখন কী তিনি নিরাপত্তা দিতে পারছেন? নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনের নির্বাহী ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকার কথা। কিন্তু তফসির ঘোষনার পর প্রায় ১১০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। পুলিশের গুলিতে মারা গেছে প্রায় অর্ধেক। সিইসি কী এই দায় এড়াতে পারবেন? বিরোধী দলের অবরোধের কারণে সাপ্তাহে ৬ দিন ঢাকা থেকে সারাদেশ বিচ্ছিন্ন থাকছে। কয়েকটি জেলায় যৌথ বাহিনী নামিয়েও বিক্ষুব্ধ মানুষকে শান্ত করা যাচ্ছে না। বিরোধী দল হুংকার দিয়েছে যেকোনো ভাবেই হোক নির্বাচন ঠেকিয়ে দেয়া হবে। এ অবস্থায় তিনি ভোটার ছাড়াই নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন? ভোটার ছাড়া ভোট আর পানি ছাড়া নৌকা কী কল্পনা করা যায়? অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন যেন উদ্ভট উঠের পিঠে চড়েছে। সিইসির কথা শুনে হেদায়েত হোসেন মোরশেদের সেই প্রবন্ধ ‘গাঁজার নৌকা পাহাড় দিয়ে যায়’ এর কথা মনে পড়ছে। সিইসি জনাব মোরশেদের সেই ‘গাঁজার নৌকা পাহাড় দিয়ে যায়’ এর মতো ভোটার বিহীন নির্বাচন করেই ছাড়বেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ বলেছেন, প্রার্থীবিহীন ভোটার বিহীন এ নির্বাচন ইতিহাসে পাগলের সংসদ হিসেবে পরিচিতি পাবে।
স্টালিন সরকার :
No Comments
গাঁজার নৌকা পাহাড় দিয়ে যায়!
.
