গনমাধ্যমে জানা গেল ভারতের আদালত চত্বরে গাড়ি থেকে নামার পরপরই ৭৫ হাজার কোটি রুপির মালিক সাহারা গোষ্ঠীর প্রধান সুব্রত রায়ের মুখে কালি ছিটিয়ে দিয়েছেন মনোজ শর্মা নামের এক ব্যক্তি। কালি ছুড়েই ক্ষান্ত হননি তিনি। চিত্কার করে বলতে থাকেন, ‘সুব্রত রায় একজন চোর। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তিনি চুরি করেছেন।’
মুখ ও জামায় কালিলেপা অবস্থাতেই সুব্রত রায় আদালতে ঢোকেন, করজোড়ে ক্ষমা চান, অর্থ পরিশোধের বিকল্প প্রস্তাব দেন।
আজ মঙ্গলবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত সুব্রত রায়ের পুলিশি হেফাজতে থাকার মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। শুধু সুব্রত রায়ই নন, তাঁর যে দুই কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে, এক নারী পরিচালক ছাড়া তার অন্য পরিচালকদেরও পুলিশি হেফাজতে থাকতে হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালত বলেছেন, হেফাজত উত্তর প্রদেশ পুলিশের নয়, দিল্লি পুলিশের।
আদালতে দুই ঘণ্টা সওয়াল জবাবের সময় সুব্রত রায় অর্থ ফেরত দিতে দুই মাসের বাড়তি সময় চান। তিনি বলেন, এই দুই মাসে তাঁদের সম্পত্তি বিক্রি করে লগ্নিকারীদের বকেয়া অর্থ ফেরত দেবেন। সাহারা পরিবারের ১৬ লাখ কর্মীর দিকটাও আদালতকে মনে রাখতে অনুরোধ করেন।
বিচারপতি বলেন, এই প্রস্তাবে আদালত সন্তুষ্ট নয়।
শেয়ার ও স্টক এক্সচেঞ্জে লগ্নিকারীদের স্বার্থ দেখতে গঠিত সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি) সাহারা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত করেছে। কোম্পানির যে দুটি প্রকল্প থেকে ২৪ হাজার কোটি রুপি সংগৃহীত হয়, তা বেআইনি বলে ঘোষণা করেন আদালত এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেন।
সুব্রত রায় আদালতকে জানান, নিজেদের সম্পত্তি বিক্রি করে তাঁরা বকেয়া পাওনা শোধ করবেন। সে জন্য তিনি ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন। এই প্রস্তাব শীর্ষ আদালত গ্রাহ্য করেননি। আদালত এ কথাও বলেছেন, নগদে অর্থ ফেরত দেওয়া যাবে না। ফেরত দিতে হবে চেক বা ড্রাফট মারফত।
এখানে আমি বলতে চাচ্ছি। ভারত প্রতিবেশি দেশের জন্য যতই খারাপ হউক না কেন নিজেদের আভ্যন্তরীন বিষয়ে কতই কঠোর! তারা তাদের দেশের সাধারন মানুষের স্বার্থ এতটুকু ছাড় দেন না। তাদের আদালত কত শক্তিশালি ও সরকারি প্রভাব মূক্ত হলে ভারতের অন্যতম পয়সা ওয়ালা ৭৫ হাজার কোটি রুপির মালিককেও তাদের আদালত এবং রাষ্ট্রিয় একটি সংস্থা তাকে ছাড় দেয়নি, হার মানেনি তার টাকার কাছে। তার চাইতেও ভারতের সরকার ও আদালত গুরুত্ব দিয়েছে অন্যায়, অনিয়ম ও তাদের দেশের মানুষের স্বার্থ।
অথচ আমাদের দেশে একই রকম ঘটনায় যেমন শেয়ার বাজারে হাজার হাজার মানুষের লুটে নেয়ার টাকার সন্ধান করেনি সরকার, করেনি এই টাকা লুটেরাদের বিচার, মানুষ জানতে পর্যন্ত পারলো না কারা তাদের কষ্টের বিনিয়োগ করা শেয়ার বাজারের টাকা হাতিয়ে নিল! এই টাকা হারিয়ে যারা গলায় রশি দিলো তাদের মৃত দেহের দিকে তাকিয়ে বা তাদের পরিবারের আহাজারির মানবিক চিন্তা করেও এই সরকার লুটেরাদের বিচারের আওতায় আনলো না।
এদেশের কোট স্বপ্রনোদিত হয়ে কতনা জনমংগল কাজ করলো কিন্তু শেয়ার বাজারের লক্ষ লক্ষ মানুষের চরম কষ্টের কথাটা স্বপ্রনোদিত হয়েতো দূরে থাক তাঁদের মনে উকিও দিলো না!
কোটি মানুষের ডেসটেনি'তে রাখা টাকার অনিয়মের বিচারের নামে সরকার নিজেই লুটপাট করলো, কেউ উহ আহ ও করলো না। আজ ডেসটেনিতে পুজি হারিয়ে পথে বসে গেল কোটি কোটি মানুষ। হলমার্ক কেলেংকারি করে দেশের ব্যাংক খালি করলো, এই টাকা উদ্ধারের কোন কার্যকর ব্যবস্থাই গ্রহন করলো না সরকার। আরো অপ্রকাশিত অনেক ব্যাংক খালি হয়ে গেল, যা চেপে রাখার জন্য লুটেরা ব্যবসায়ীদের চেয়ে সরকার বেশি ব্যস্ত। পদ্মা সেতু অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেল বাংলাদেশের স্বাধীন আদালতে বিচার হলো না, বিচার শুরু হলো কানাড়ায়। সাগর-রুনির হত্যার বিচারতো প্রিজে থাকলো, সঠিক তদন্ত পর্যন্ত হলো না। হাইকোটের নির্দ্দেশেও নাকি তদন্ত রিপোট আসে না। অথচ প্রতিবেশি দেশের ৭৫ হাজার কোটি রুপির মালিকও কোটে দাঁড়িয়ে কোরজোড়ে বলছে নিজেদের সম্পত্তি বিক্রি করে তারা ভূক্তভোগিদের টাকা ফেরত দিতে চায় কিন্তু মহামান্য আদালত তাতেও অপরাধিকে ছাড়তে রাজি নয়, এ হলো দেশপ্রেম।
রানাপ্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের নামে হাজার কোটি টাকার চাঁদা আদায়ের পরও ক্ষতিগ্রস্তরা টাকা পায় না, সংগ্রহকৃত টাকার হিসাবও জাতি আজো জানতে পারে না। সরকারি টাকার হিসাব বাদই দিলাম। বেসরকারি হসপিটালগুলোর সাহায্য, সাধারন মানুষের ঘটনাস্থলে পৌছে দেয়া সামগ্রির কথাতো আমরা ভূলেই গেছি!
ইলিয়াস আলি গুম হলো কারো যেন দায়িত্বেই পড়ে না, প্রতিদিন বিরোধীদলীয় নেতা কর্মী গুম হচ্ছে, খুন হচ্ছে এদের কথা কেউ তোলে না, কারন এরা বোধ হয় মানুষ না! নয়তবা সরকারে মারলে তা বৈধ, সরকারের কারনে আন্দোলনে মরলে তারা মানূষ। কবে যে সকল হত্যাকান্ডকে হত্যা আর সবাইকে মানুষ বিবেচনা করা হবে এদেশে সেদিনের অপেক্ষায় থাকলাম।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের অধীনে সকল নির্বাচনই হচ্ছে কোন টুশব্দটি পর্যন্ত হয় না, অথচ আমাদের নির্বাচন চলাকালিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (রেফারি) দীর্ঘ মেয়াদের ছুটি নিয়ে দেশের বাহিরে চলে যায়, যাতে নির্বাচনে অনিয়ম করতে অসুবিধা না হয়, দায়িত্ব এড়ানো যায়। যা বলা যায় আতাতের ছুটি। দেশে একটা অবৈধ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধ সরকার চেপে বসেছে কারো কোন টুশব্দ নেই। কি ব্যবসায়ী, কি আমলা, কি পেশাজীবি, কি সুশিল সমাজ, কি আদালত। অথচ অন্যকোন সভ্য দেশে হলে আদালতই জনস্বার্থে এক রায়ে এ সরকারকে বাতিল ঘোষনা করে এক সপ্তাহে নামিয়ে দিত। মনে হয় যেন সব দায়িত্ব কেবল বিরোধী দলের, অথচ বিরোধী দল যখন এ ইসুতে আন্দোলন করে তখন পুলিশ পাঁখি মারার মত গুলি করে মানুষ মারলো, ঘন্টায় ঘ্ণটায় নেতা-কর্মী জেলে নিলো, এর প্রতিবাদতো নাই বরং এমন কেমন আন্দোলন, এভাবে কেন,এটা কি ধরনের আন্দোলন বলে চিৎকার করার লোকের অভাব হলো না। কিন্তু যে সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে রাখছে তার কারনেই বাধ্য হয়ে বিরোধী দল আন্দোলন করছে আর আন্দোলনে মানুষের মৃত্যুর জন্য সরকারই দায়ী, সরকার জোর করে ক্ষমতায় না থাকতে চাইলেতো আন্দোন হতো না আর মানুষও মরতো না, এইটা কেউ বলতে রাজি না। হায়রে মানুষ, হায়রে মানুষের বিবেক! এরা নাকি আবার 'চুচিল মাজ' ব্যবসায়ীরা আবার বলে আন্দোলন না থাকাতে এখন ব্যবসার অবস্থা নাকি ভালোর দিকে যাচ্ছে, পারলে বিরোধীদল কে আন্দোলন না করার কারনে কখন যে ধন্যবাদ দিয়ে বসে এই ব্যবসায়ী ও সুশিল সমাজ। এমন হলেও আর্চায্য হওয়ার কিছু থাকবে না। সারাদেশটাকে যে ক্যান্সারে আঘাত করে পংগু করে দিচ্ছে, আগামি দিনগুলোতে যে দেশে অন্ধকার আসন্ন তা কিন্তু চিন্তা করছে না, বৈধ হউক আর অবৈধ হোক আন্দোলন না হলেতো ব্যবসা ভাল চলবে। কেউ ভিসি হবে, কেউ সচিবের, কেউ আরো উপরের বিচারপতিতে পদোন্নতি পাবে, কেউ কেউ বিভিন্ন ব্যাংক-বিমার চেয়ারম্যান হবে, কেউ আবার রাষ্ট্রিয় মালিকানাধীন প্রতিষ্টানের প্রধানের দায়িত্ব নিবে, বিনিময়ে একটু মাঝে মধ্যে অন্ধ সেজে থাকবে, 'সু+শীল' সাজবে, এর আর এমন কি। এ হলো তাদের প্রাপ্তি, বিচার ও মূল্যায়ন।
