কয়েক
ঘন্টা আগে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৃটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক শেষে বের হওয়ার
পথে বেগম জিয়ার বাসভবনের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিএনপি'র ভাইস
চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শমসের মবিন চৌধুরীকে। বিএনপি'র যে নেতাই
আন্দোলনের কাজে প্রকাশ্যে আসছেন, তাকেই আটক করা হচ্ছে। কেউই প্রকাশ্যে এসে
আন্দোলনে এক-দুই ঘন্টার বেশী অবদান রাখতে পারছেন না। শমসের মবিন যা-ও
ম্যাডামের পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলে আন্দোলন ও বর্তমান সরকারের
স্বেচ্ছাচারিতা তুলে ধরতেন, এই স্বেচ্ছাচারী সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার
উদ্দেশ্যে মনে করেছে তাকে আটকের মধ্যে দিয়ে এই কাজটিও থেমে যাবে। এই
কর্মটির মধ্যে দিয়ে সরকার আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা সফল হলেও, এটি তাদের স্থায়ী
সফলতা নয়। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই অবস্থা বিএনপি কাটিয়ে উঠবে। আসুন
দেখে নিই গত দু' মাসে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের গ্রেফতারের একটি
ছোট্ট পরিসংখ্যান।
সোনারগাঁও হোটেলে সরকারদলীয় নেতাদের
সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একটি অনুষ্ঠান শেষে অতর্কিতভাবে, বিনা কারনে
শুধুমাত্র আগামীর আন্দোলনকে বাধাগ্রস্থ করার লক্ষ্যে গ্রেফতার করা হয়
বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির তিন সদস্য- মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম ও
এম কে আনোয়ারকে।
সূত্রঃ "বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ-আনোয়ার-রফিকুল গ্রেফতার" - দৈনিক যুগান্তর
আন্দোলনকে
স্থবির করার লক্ষ্যে বেগম জিয়াকে গৃহবন্দি করার একটি খবর ছড়িয়ে পড়লে যখন
কেউই বেগম জিয়ার সাথে দেখা করতে পারছেন না, তখন ব্যাবসায়ী নেতাদের নেওয়া
উদ্যোগের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেত্রীকে অবহিত করে বের হওয়ার সময় বেগম জিয়ার
বাসভবনের সামনে থেকে ব্যাবসায়ী ও বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং
বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়।
সূত্রঃ
"বিএনপির তিনজন শীর্ষ নেতাসহ পাঁচজন (বিএনপি চেয়ারপার্সনের সহকারী শিমুল
বিশ্বাস, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু) আটক" - বিবিসি
বাংলা
এখানেই থেমে নেই সরকার। মাঠের আন্দোলনের অগ্রভাগে
যারা থাকে, সেই ছাত্র ও যুবসমাজকে স্থবির করে দেওয়ার জন্য গ্রেফতার করা হয়
ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও যুবদলের সাধারন সম্পাদককে। এর কিছুদিন
পর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক দুই সভাপতিকেও আটক করা হয়। একই
কারনে গ্রেফতার করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক ও সাংগঠনিক
সম্পাদককেও।
সূত্রঃ "ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গ্রেফতার" - দৈনিক নয়া দিগন্ত
"স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গ্রেফতার" - বাংলানিউজ২৪.কম
ঢাকায়
আন্দোলনকে আরও বেগবান করার জন্য নেত্রী ঢাকাকে আটভাগে ভাগ করে, আটজন নেতার
উপর দায়িত্ব ন্যাস্ত করেন। এই প্রেক্ষিতে সরকার আটক করে সাদেক হোসেন খোকা ও
হান্নান শাহকে।
সূত্রঃ "সাদেক হোসেন খোকা গ্রেপ্তার" - বিডিনিউজ ২৪.কম
"হান্নান শাহ গ্রেফতার, খোকা সহ দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর" - দৈনিক সংবাদ
যে
সময় দলের আন্দোলনের পক্ষে কেউই প্রকাশ্যে কাজ করতে পারছিল না, সে সময়
রুহুল কবির রিজভী আহমেদ সকল প্রতিকূলতা তুচ্ছ করে দীর্ঘদিন বিএনপি অফিসে
অনেকটা গৃহবন্দীর মত দলের বিভিন্ন দাপ্তরিক দায়িত্ব ও মুখপাত্রের ভূমিকা
পালন করছিলেন। তখন রাতের আঁধারে বিএনপি অফিসের ভিন্ন পথে দরজা ভেঙ্গে তাকে
টেনেহেঁচড়ে নিয়ে এসে গ্রেফতার করল পুলিশ।
রিজভী আটকের পর
বিএনপি'র মুখপাত্রের দায়িত্ব দেয়া হলো দলের যুগ্ন মহাসচিব সালাউদ্দিন
আহমদকে। সেদিনই আটক করার জন্য তাঁর বাসায় হানা দেয় পুলিশ! আন্দোলন এগিয়ে
নিয়ে যাওয়ার জন্য গ্রেফতার এড়িয়ে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করতে থাকলেন
তিনি। সরকারের নজিরবিহীন ধরপাকড়ের কারনে তিনি যখন বাধ্য হয়ে অজ্ঞাত স্থান
থেকে বিএনপি'র বার্তা জনগনের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেন, তখন কিছু মিডিয়া,
সুশীল এবং দূর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের তৃণমূলের কিছু নেতা-কর্মী ও সমর্থক বলা
শুরু করলো, 'এটা কি ধরণের দল! কি ধরণের নেতা! কেমন আন্দোলন এটা! বিএনপি
আন্ডারগ্রাউন্ডের দল নাকি! বিএনপি নিষিদ্ধ সংগঠনের মত আচরণ করছে কেন!' আরে
বাবা! যে সামনে আসছে তাকেই গ্রেফতার করছে, কর্মকান্ড পরিচালনাই করা যাচ্ছে
না! সেই পরিস্থিতিতে অবশ্যই কৌশল গ্রহন করে আন্দোলনকে যে কোন উপায়ে
গন্তব্যে নিয়ে যেতে হবে। এই অবস্থায় যদি রিজভীর পরে সালাউদ্দিন,
সালাউদ্দিনের পরে যে আসবে সে, এরপরে যে সামনে আসবে সে গ্রেফতার হতেই থাকে
এবং কোনো একজন নেতা একদিনের বেশী আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে না পারে,
সেক্ষেত্রে গ্রেফতার এড়িয়ে কাজ করাই তো আন্দোলনের জন্য সহায়ক। আমরা স্বীকার
করছি, বিএনপি কোন আন্ডারগ্রাউন্ডের দল নয়। কিন্তু সরকার যদি সেদিকে ঠেলে
দেয়, নিরুপায় হয়ে বিএনপি নেতাদের সেরকম কৌশল নিতেই হবে। যুগে যুগে বিভিন্ন
দেশে অত্যাচারী শাসকের হাত থেকে জনগনের মুক্তির সংগ্রামে ও গণতন্ত্র
উদ্ধারে অনেক গনতান্ত্রীক দলকেই 'আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি' করতে হয়েছে। অথচ,
মিডিয়া ও সুশীলদের পাশাপাশি খোদ আমাদের অনেক লোককেই বিএনপি'র এই কৌশলগত
কর্মপদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা করতে শুনেছি। কিন্তু তারা কি ভেবে দেখেছে,
সরকারের এহেন আচরনের পর বিএনপি'র নেতাদের কাছে আর কোন বিকল্প রাস্তা খোলা
নেই? তাহলে আমরা কি ধরে নেবো, তারা চান বিএনপি'র সকল নেতা একদিনে একঘন্টায়
একসাথে একবারেই আটক হয়ে জেলখানায় ভর্তি হয়ে যাক? তাহলে কি আমরা ধরে নেবো,
তাঁরা চান, আন্দোলন নেতৃত্বহীন হোক? আমরা মনে করি, কিছু নেতা আত্নগোপনে
থাকলেও অন্ততঃ আন্দোলনের কিছু কাজ পেছনে থেকে এগিয়ে নেওয়া যায়, যা জেলের
ভেতরে থেকে অসম্ভব!
সূত্রঃ "বিএনপি কার্যালয় থেকে রুহুল কবির রিজভী আটক, কার্যালয় তছনছ"- বাংলানিউজ.কম
বেগম
খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে যাওয়ার অপরাধে মহিলা সংসদ সদস্য শাম্মী আকতার
ও আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সকল গ্রেফতারের মধ্য
দিয়ে সরকার একটি মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করলো যে, বেগম জিয়ার সাথে যে-ই দেখা
করতে যাবে, তাকেই আটক করা হবে। অর্থাৎ, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকার
চেয়েছে আন্দোলনের নেত্রী বেগম জিয়াকে নেতাকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে
আন্দোলনকে স্তিমিত করতে।
সূত্রঃ "সংসদ সদস্য শাম্মী আকতার, সাবেক
সংসদ সদস্য সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও আবদুল আওয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আওয়াল
মিন্টু আটক" - দৈনিক পূর্বদেশ
এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের
পাশাপাশি জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ের হাজার-হাজার নেতাকর্মীকে জেলে
রাখা হয়েছে, মামলা-হামলা করেছে। শত-শত নেতাকর্মীকে নির্বিচারে গুলি করে
সরকার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যাক রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের রেকর্ড গড়েছে,
যেই ব্যাপারটি গিনেজ কতৃপক্ষের বিবেচনা করা উচিৎ! সাধারন, স্বাভাবিক ও
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে গিয়েও বুলেটে বিদ্ধ হতে হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের
মধ্যে আরও আছেন, জোট নেতা শফিউল আলম প্রধান। চট্টগ্রামে একটি মিছিল শেষে
গ্রেফতার হন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার। একই দিন চট্টগ্রাম
বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে। কয়েকদিন আগে ঢাকা
মৎস্যভবনের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় মাহবুব উদ্দীন খোকনকে।
সূত্রঃ "বিএনপি নেতা মীর নাছিরউদ্দিন ও গোলাম আকবর খন্দকার গ্রেপ্তার" - প্রথম আলো
"বিএনপি নেতা মাহবুবউদ্দিন খোকন গ্রেপ্তার" - প্রথম আলো
প্রকাশ্যে
এসে আন্দোলনে যুক্ত হবার সাথে সাথেই যেভাবে বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার করা
হচ্ছে, তার সর্বশেষ উদাহরনের একটি হলেন মেজর (অবঃ) হাফিজ। মাত্র দুই দিন
সাংবাদিক সম্মেলন করার মাথায়ই তাকে গ্রেফতার হতে হলো। এতে এটাই প্রমান হয়,
তিনি ও তার মত অনেকেই প্রকাশ্যে এসে দীর্ঘসময় ধরে আন্দোলনে অবদান রাখতে
পারেননি ও পারবেন না। এই নেতারা আজ যদি গ্রেফতার এড়িয়ে জেলখানায় না থাকতেন,
তাহলে তারা আন্দোলনে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখতে পারতেন, যা জেলখানায় বসে
এখন একটুও পারছেন না। এই বিষয়টি আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। বুঝতে হবে এবং
বাস্তবতা মেনেই আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।
সূত্রঃ "অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণার পরই গ্রেফতার হলেন বিএনপি নেতা হাফিজ" - রেডিও তেহরান
ধরে
নেওয়া যাক, এক্ষুণি মহাসচিব সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা প্রকাশ্যে এসে
কার্যক্রম শুরু করলো, আমরা নিশ্চিত এক ঘন্টার মধ্যেই তাঁরা আটক হবেন। এমনকি
নিকট অতীতে, আন্দোলনের শুরুতে মহাসচিব দুইবার আটকও হয়েছিলেন। তখন দলের
স্বাভাবিক অনেক কাজই ব্যাহত হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে যদি মহাসচিব বের হয়ে
আটক হয়ে জেল খানায় পড়ে থাকেন, সেটা কি আন্দোলনের জন্য লাভজনক হবে? নাকি এখন
আত্নগোপনে থেকে আন্দোলনের ন্যুনতম কাজগুলো চালিয়ে নেওয়া যে যাচ্ছে - সেটা
লাভজনক? এইটুকু আমাদের সকলের বিবেচনায় আনতে হবে। আমাদের সকলকেই একটা কথা
স্মরণ রাখতে হবে, আন্দোলনের সফলতা একসাথে বা কয়েকদিনে চলে আসে না, এটা আশা
করাও ভুল। সফলতা আনতে হলে, আন্দোলন ধরে রাখতে হয়। আন্দোলন কখনও কখনও
মোমবাতির মত জ্বলে, আবার তা সময়-সুযোগ ও প্রেক্ষাপটে দাউ দাউ করে জ্বলে
উঠে। সে সময়টুকু পর্যন্ত যেতে হলে, কিছু কিছু নেতাকর্মীকে বাহিরে থেকে হলেও
টিকে থাকতে হবে। আজকে যারা হা-পিত্যেস করছেন - তারা সঠিক নন। এতে আন্দোলন
ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। আমাদের আরও কঠিন মনোবল নিয়ে ধৈর্য্য ধরে এগিয়ে যেতে
হবে। নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে, এরশাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সহ সকল
রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও ছাত্র-জনতার যুগপৎ কঠোর আন্দোলনের পরও,
আন্দোলনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বেশ সময় লেগেছে। এরশাদের লোকদের হাতে
ডাঃ মিলনের হত্যার মধ্যে দিয়েই পরিস্থিতি আন্দোলনকারীদের পক্ষে চলে আসে এবং
স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটে।
আন্দোলনের বিপক্ষ শক্তির
কিছু মিডিয়া ও সুশীল 'কেন বিএনপি নেতারা রাজপথে নেই'- এই বিষয়টিকে
অতিমাত্রায় হাইলাইট করে আন্দোলনের পক্ষের শক্তিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা
করছে। অথচ, সরকার বিএনপি'র নেতাকর্মীদেরকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও দাঁড়াতে
দিচ্ছে না, দেখামাত্র গুলি ও গ্রেফতার করছে। এমনকি সর্বশেষ 'মার্চ ফর
ডেমোক্রেসি' কর্মসূচির দিন আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন, প্রত্যেকটি জেলার
সাথে ঢাকার সকল যোগাযোগ মাধ্যম সরকার নিজেই বন্ধ করে দিয়েছে। সড়ক যোগাযোগ
তো বটেই, এমনকি লঞ্চ, ফেরী, নৌকা, ট্রেন পর্যন্ত তারা বন্ধ করে দিয়েছে।
মোটরসাইকেল, সিএনজি সহ রিকশার যাত্রীদের পর্যন্ত হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে।
সরকারী পুলিশ বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় আওয়ামী দলীয় ক্যাডাররা মহামান্য
সুপ্রীমকোর্ট, প্রেসক্লাব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের উপর
নগ্নভাবে হামলা চালিয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রেসক্লাবে ও মহামান্য সুপ্রীম
কোর্টে হামলা অতীতে কখনও ঘটেনি। বিশেষ করে মহামান্য সুপ্রীমকোর্টে হামলার
ঘটনাটিও গিনেজবুকে স্থান পাওয়ার দাবী রাখে! এসব ঘটনাই নির্দেশ করে, বিএনপির
নেতাকর্মীদের স্বাভাবিকভাবে রাজপথে আসা কতটা দুরহ! অথচ, সেসব সুশীল ও
মিডিয়া সরকারের এহেন নির্যাতন-নিপীড়ন, হত্যা, গুমের মাধ্যমে আন্দোলন দমানোর
বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছে। আমরাও যদি তাদের মত করে বিষয়টিকে একইভাবে
মূল্যায়ন করি এবং বিষয়টির গভীরে না গিয়ে সমালোচনা করি, তাহলে
চক্রান্তকারীদের উদ্দেশ্যকেই সমর্থন করা হলো।
আজ আমাদের
নেত্রী প্রায় অবরুদ্ধ। বের হতে দিচ্ছে না কর্মসূচিতে। দেখা করতে দিচ্ছে না
সংবাদমাধ্যমের সাথে। নিকট আত্নীয়স্বজনকে পর্যন্ত সাক্ষাতে বাঁধা দিচ্ছে।
বাড়ির চতুর্দিকে বালির প্রাচীর নির্মান করা হয়েছে! এরপরেও আমাদের আন্দোলন
চালিয়ে যেতে হবে। এর চেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও আন্দোলন এগিয়ে
নেওয়ার মানসিকতা অর্জন করতে হবে এবং সহযোদ্ধাদের বিষয়টি অনুধাবন করতে
সাহায্য করতে হবে। ইনশাল্লাহ্, আমরা সফল হবই, এই গণতন্ত্রের মুখোসধারী
হায়েনা সরকারের পতন অনিবার্য।
সহযোদ্ধাদের জন্য একটি বিশ্লেষণ : যে কারনে বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে নেই
.

Thanks
Mohahammad Neshar Uddin
আমার ব্লগ ভিজিট করার জন্য তোমাকেও ধন্যবাদ।