বিবৃতি : শহীদদের রক্তের উপর পা রেখে ভোট কেন্দ্রে যাবেন না, একতরফা প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করুন


.

প্রিয় খাগড়াছড়ি বাসী ॥

সকলকে জানাই সংগ্রামী সালাম ও শুভেচ্ছা। দেশ ও জাতির স্বার্থে ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের অধীনে প্রহসন মূলক এই নির্বাচন বর্জনের জন্য একজন সম্মানিত ভোটার হিসেবে আপনার প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি‘র পক্ষ থেকে আমাদের এই বার্তা।

হে সম্মানিত ভোটার॥

ভোট আপনার নাগরিক অধিকার। এই সরকার আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে, দেশে একটি প্রহসনের নির্বাচন করছে। যে নির্বাচনে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম দল বিএনপি সহ উল্ল্যেখযোগ্য কোন দলই অংশগ্রহণ করছে না। শুধুমাত্র বর্তমান সরকারী দল আওয়ামী লীগ ও তাদের আজ্ঞাবহ জোট এই পাতানো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনটি এতই অগ্রহনযোগ্য যে, জনগণের ভোট ছাড়া ইতোমধ্যেই তিনশ' আসনের মধ্যে বিনাভোটে ১৫৪ টি আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। পরিতাপের বিষয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হওয়ায় জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট সহ গনতন্ত্রমনা কোন গ্রহনযোগ্য রাজনৈতিক দলই এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না এবং এ নির্বাচন প্রহসন মূলক হওয়ায় ভোট বর্জনসহ নির্বাচন প্রতিহত করতে সারা দেশের ন্যায় খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপিও প্রস্তুত রয়েছে। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, এই একতরফা ও প্রহসনের নির্বাচন বর্জন ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবীতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ব্যাতিরেকে খাগড়াছড়ি জেলায় আপনাদের সকলকে সাথে নিয়ে, সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচী বিগত সাড়ে তিন বছর ধরে পালন করে আসছি। সারাদেশের ন্যায় এ আন্দোলনে আমাদের জেলায়ও সকল স্তরের নেতাকর্মীরা হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

প্রিয় খাগড়াছড়িবাসী ॥

আপনারা অবশ্যই উপলব্ধি করতে পেরেছেন, বর্তমান এ স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার ২০০৮ সালে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে বিরোধীদলসহ সাধারণ জনগণের উপর জুলুম-অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা, গুম, অপহরণসহ সকল প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করে দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু করে ফেলেছে। একতরফাভাবে পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করে ২০১৪ সালের বাংলাদেশকে ৭২’-এ ফিরিয়ে নিয়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি বারবার জোরালো আপত্তি করা সত্ত্বেও সরকার এ বিষয়ে কর্ণপাত করেনি। বরং সংবিধানের দোহাই দিয়ে দেশী-বিদেশী কূটনীতিক, সুশীল সমাজ ও জনমতকে উপেক্ষা করে পুলিশ প্রশাসন ও দলীয় ক্যাডারদের মাঠে নামিয়ে একদলীয় প্রহসনের নির্বাচন করতে যাচ্ছে ৫ জানুয়ারী ২০১৪ তারিখে।

হে বিবেকবান ভোটার ॥

দেশ আমাদের মায়ের মত। আমাদের মায়ের ইজ্জত আমাদের রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি বাংলাদেশের সকল নাগরিকের অধিকার রক্ষার জন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবীতে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। এ আন্দোলনে সরকার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ জনগণকে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে হত্যা করেছে। গনতন্ত্রের জন্য যারা কথা বলে তাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, গ্রেফতার ও ঘরবাড়ি-ছাড়া করেছে। প্রায় সকল কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। বিশ্বে কোন আন্দোলনে নিরস্ত্র নেতাকর্মী ও জনগণের উপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে এহেন হত্যাজজ্ঞের কোন নজির ও ইতিহাস নেই। তথ্য প্রযুক্তির এই দিনে বিভিন্ন মিডিয়াতে আপনারা সরাসরি দেখেছেন, পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুলিশ র‌্যাবের পোষাক পরিধান করে ফিল্ম-স্টাইলে নিরীহ জনগণকে হত্যা করেছে এবং অনেক লাশ গুম করে ফেলেছে। গত ২৯ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম জিয়া ঘোষিত “মার্চ ফর ডেমোক্রেসি” বানচাল করতে রাজধানী ঢাকাকে সরকার সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেশকে অচল করে রেখেছে। বিএনপি'র নেতা-কর্মী ও দেশপ্রেমিক সাধারণ মানুষকে এ আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করতে দেয়নি। শুধু তাই নয়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাসা ১৩ প্লাটুন পুলিশ দিয়ে এখনো অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সংবাদমাধ্যমের সাথেও আমাদের নেত্রীকে কথা বলতে দিচ্ছে না, যা বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিক অবগত আছেন এবং উপলব্ধি করতে পেরেছেন, এ সরকার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য কি না করতে পারে! বিএনপিসহ বাংলাদেশের সকল নাগরিক একদলীয় ও প্রহসনমূলক এ নির্বাচন চায় না। শহীদ জিয়ার একজন সৈনিক বেঁচে থাকলেও এ আন্দোলন চলবে। আমাদের এ আন্দোলনে আপনিও শরীক হউন। এ প্রহসনমূলক একদলীয় নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করবে, তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করবে, তাদেরকে জাতি কখনই ক্ষমা করতে পারবে না। আপনি একজন সম্মানিত ভোটার হয়ে তাদের রক্তের উপর পা দিয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন না। এই একতরফা নির্বাচন প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ১৮ দলীয় জোটের ডাকে পহেলা জানুয়ারি থেকে সারাদেশে লাগাতার অবরোধ চলছে। আমরা আশা করি, এ অবরোধও আপনারা অতীতের মত সফল করবেন।

প্রিয় নেতাকর্মী ভাই-বোনেরা ॥

প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রে ১৮ দলীয় জোটের সংগ্রাম কমিটির নেতা-কর্মী ও দলের সকল স্তরের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীর প্রতি উদাত্ত ও কঠোর আহ্বান জানাচ্ছি, ৫ জানুয়ারির একতরফা ভোট প্রতিরোধ, প্রতিহত ও বর্জনের লক্ষ্যে এলাকার সম্মানিত ভোটারদের মধ্যে ঐক্যমত্য সৃষ্টি করবেন। কোনভাবেই যেন অন্ততঃ আমাদের সমর্থক ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে না যায়, সেই ব্যাবস্থা করতে হবে। উপর্যুক্ত কার্যকর ভূমিকা পালনের মধ্যে দিয়ে এ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন।

পরিশেষে, আপনাদের প্রতি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আহবান জানাচ্ছি, আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার এ আন্দোলন সফলতায় রুপ দিতে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও আমার প্রতি যদি কিঞ্চিৎ পরিমাণ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সমর্থন থেকে থাকে, তাহলে আপনারা ভোটদানে বিরত থেকে প্রহসনের এ নির্বাচন প্রতিহত করুন।

শুভেচ্ছান্তে
আপনাদের

ওয়াদুদ ভূইয়া
সভাপতি, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি
সাবেক এমপি এবং চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড