হাসিনার সমঝোতার গনতন্ত্রের নমুনা ও Where is My Vote? ।


.

"৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের আগেই ফলাফল নির্ধারিত ছিল" - ফাঁস করলেন প্রফেসর আলী রীয়াজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী ঘরানার এ অধ্যাপক মার্কিন মুল্লুকে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা শেষ করে ওয়াশিংটনের উড্রো উইলসন সেন্টারের সিনিয়র রিচার্স ফেলো হিসাবে কর্মরত। গত ২০ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন রিলেশন্স সাবকমিটিতে বাংলাদেশ বিষয়ক শুনানিকালে জেনারেল মুনীরুজ্জামানের সাথে ডঃ আলী রীয়াজকে বিশেষজ্ঞ হিসাবে উপস্হাপনা করতে দেখা গেছে। সেদিনও তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতি সহানুভূতিশীল দেখা গেছে।

সেই ডঃ আলী রীয়াজ তুলে ধরেন কী পদ্ধতিতে আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ৫ জানুয়ারী ভোটের আগেই ফলাফল তৈরী করে রাখেন। গত ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে আওয়ামীলীগের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী ফলাফল তৈরীর সুত্র প্রকাশ করেন। ফলাফল সংক্রান্ত এ প্রশ্নের উত্তর না চাইতেই শেখ হাসিনা নিজ থেকেই তা প্রকাশ করেছেন যে, ”সর্বদলীয় সরকারে যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে সমঝোতা করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি।” সমঝোতার সূত্র এবং অন্যান্য আসনের ফলাফলের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর এই কথার মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন ডঃ রীয়াজ। শেখ হাসিনার ভাষায়, ”যেখানে যেখানে প্রার্থী আছে, সেখানে একটা পার্সেন্টেজ ধরেছি যে এখানে এত পার্সেন্ট সমঝোতা করে ছেড়ে দেব।” শুধু তা-ই নয়, প্রধান বিরোধী দলের ব্যাপারেও তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট, “যদি বিএনপি আমাদের সঙ্গে সর্বদলীয় সরকারে আসত, তাদের সঙ্গেও আমরা একই প্রক্রিয়া করতাম।”

তার মানে দাড়ায়, ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের ফল শেখ হাসিনা আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন এবং তিনি বিরোধী দল তথা বিএনপিকেও তার পছন্দমত কিছু আসন ভাগ বন্টন করে দিতেন। প্রধানমন্ত্রী হাসিনা নিশ্চয় বিএনপিকে সংখ্যাগরিষ্ট আসন দিতেন না, যা দিয়ে তারা সরকার গঠন করতে পারত। যদিও সাম্প্র্রতিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি-জোটের অর্জন ছিল শতভাগ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এই যে ২০০৮ সালের ন্যায় “পূর্বনির্ধারিত ফলাফলই’ হচ্ছে শেখ হাসনার ভাষায় সমঝোতার গণতন্ত্র! আলী রীয়াজ প্রশ্ন করেছেন, তবে জনগনের ভোটের অধিকার কোথায় গেলো? Where is My Vote???

শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ, কারন তিনি জনগন ও বিশ্ববাসীকে বুঝিয়ে দিয়েছেন ৫ জানুয়ারী তিনি কি করতে যাচ্ছিলেন; বিএনপি কেনো নির্বাচন বয়কট করেছে, এবং এর যথার্থতা প্রমান করে দিয়েছেন। নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সরকারের এহেন ভয়াবহ বিপজ্জনক ফর্মুলা মেনে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কেনো ?

শেখ হাসিনা এখন শুধু রাজনীতির জন্য নয়, নাগরিকদের ভোট ও গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক, সেটা আরো পরিস্কার হয়েছে শেখ হাসিনার নিজ বক্তব্যে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র এবং গণতন্ত্রকামী মানুষ দেখতে পেয়েছে কি করে বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের খামখেয়ালিতে বাংলাদেশের গনতন্ত্র ধংস হচ্ছে। এখন বাংলার মানুষের ভোটের অধিকারের লড়াইটা আরো যথার্থতা পেলো।


সূত্রঃ সামছুল আলম
       ফেবু।