মার্কিন ‘ফরেন পলিসি’ ম্যাগাজিনে সাম্প্রতিক কালের বিশ্বের চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে “পরবর্তী বছরের যুদ্ধসমূহ : সোচি থেকে সুদান, দশটি সংঘর্ষ যা ২০১৪ সালে বিশ্বের স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলবে” – শিরোনামে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। আমরা এখানে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আংশিক বিশ্লেষণ করলাম।
http://www.foreignpolicy.com/articles/2013/12/30/next_year_s_wars
তাদের মতে, ‘রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ২০১৪ সালে প্রবেশ করল। দেশটিতে একদিকে জানুয়ারি মাসের নির্বাচন এগিয়ে আসছে। অপর দিকে সরকার ও বিরোধী দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতে বহু মানুষের মৃত্যু ও শত শত মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা ক্রমে বাড়ছে। বিরোধী দল দেশজুড়ে সহিংস অবরোধ বা হরতালের ডাক দিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদী শাসন ও নির্বাচনে কারচুপির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিরোধী দল বিএনপি বলছে, তারা নির্বাচন বর্জন করবে।
এ ধরনের বর্জন সংকটকে ঘনীভূত করবে এবং প্রাণঘাতী সংঘাতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের রোড ম্যাপ তৈরি না করে কেবল নির্বাচন স্থগিত করার মধ্যদিয়ে (যেমনটা করতে অনেকেই পরামর্শ দিচ্ছেন) কোনো সমাধান বয়ে আনবে না।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। গত দু বছরে, সরকারের উদ্যোগে গঠিত এক ট্রাইব্যুনাল বেশ কয়েকটি ত্রুটিপূর্ণ রায় দিয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করার দায়ে ওই ব্যক্তিদের সাজা দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত যেসব ব্যক্তিদের সাজা হয়েছে, তাঁরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর যে সদস্যরা মূল অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। জামায়েতে ইসলামীর ছয় নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোলা হয়েছে। এতে সরকার ও বিরোধী গোষ্ঠী দুটির মধ্যে সংঘাত এত তীব্র হয়েছে যে, এ সুযোগে উগ্রপন্থী সংগঠনের উত্থান ঘটতে পারে।
এ সমস্যার সমাধান হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং স্থিতিশীল ও দায়িত্ববান সরকার গঠন করা। এ জন্য শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে পরস্পরের প্রতি সহনশীল ও উদার হয়ে সমাধানের রোড ম্যাপ তৈরির জন্য সমঝোতায় উপনীত হতে হবে।
এর বাইরে গেলে বহু বিপদ অপেক্ষা করছে। ১৯৭১ সালের পর দেশটিতে অন্তত ৩০ দফা সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে। এগুলোর এক পঞ্চমাংশ সফল হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দুজন প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হতে হয়েছে, যাঁদের একজন শেখ হাসিনার বাবা মুজিবুর রহমান। [কার্যত দুজন প্রধানমন্ত্রী নন, একজন। অন্যজন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি বেগম খালেদা জিয়ার স্বামী।] আজও সেনাবাহিনী একটি হুমকি। এছাড়া, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উগ্রবাদী হয়ে ওঠা, মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি এবং বাংলাদেশের জটিল অর্থনৈতিক গতিপথ সব মিলে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।
http://www.foreignpolicy.com/articles/2013/12/30/next_year_s_wars
তাদের মতে, ‘রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ২০১৪ সালে প্রবেশ করল। দেশটিতে একদিকে জানুয়ারি মাসের নির্বাচন এগিয়ে আসছে। অপর দিকে সরকার ও বিরোধী দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতে বহু মানুষের মৃত্যু ও শত শত মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা ক্রমে বাড়ছে। বিরোধী দল দেশজুড়ে সহিংস অবরোধ বা হরতালের ডাক দিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদী শাসন ও নির্বাচনে কারচুপির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিরোধী দল বিএনপি বলছে, তারা নির্বাচন বর্জন করবে।
এ ধরনের বর্জন সংকটকে ঘনীভূত করবে এবং প্রাণঘাতী সংঘাতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের রোড ম্যাপ তৈরি না করে কেবল নির্বাচন স্থগিত করার মধ্যদিয়ে (যেমনটা করতে অনেকেই পরামর্শ দিচ্ছেন) কোনো সমাধান বয়ে আনবে না।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। গত দু বছরে, সরকারের উদ্যোগে গঠিত এক ট্রাইব্যুনাল বেশ কয়েকটি ত্রুটিপূর্ণ রায় দিয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করার দায়ে ওই ব্যক্তিদের সাজা দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত যেসব ব্যক্তিদের সাজা হয়েছে, তাঁরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর যে সদস্যরা মূল অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। জামায়েতে ইসলামীর ছয় নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোলা হয়েছে। এতে সরকার ও বিরোধী গোষ্ঠী দুটির মধ্যে সংঘাত এত তীব্র হয়েছে যে, এ সুযোগে উগ্রপন্থী সংগঠনের উত্থান ঘটতে পারে।
এ সমস্যার সমাধান হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং স্থিতিশীল ও দায়িত্ববান সরকার গঠন করা। এ জন্য শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে পরস্পরের প্রতি সহনশীল ও উদার হয়ে সমাধানের রোড ম্যাপ তৈরির জন্য সমঝোতায় উপনীত হতে হবে।
এর বাইরে গেলে বহু বিপদ অপেক্ষা করছে। ১৯৭১ সালের পর দেশটিতে অন্তত ৩০ দফা সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে। এগুলোর এক পঞ্চমাংশ সফল হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দুজন প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হতে হয়েছে, যাঁদের একজন শেখ হাসিনার বাবা মুজিবুর রহমান। [কার্যত দুজন প্রধানমন্ত্রী নন, একজন। অন্যজন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি বেগম খালেদা জিয়ার স্বামী।] আজও সেনাবাহিনী একটি হুমকি। এছাড়া, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উগ্রবাদী হয়ে ওঠা, মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি এবং বাংলাদেশের জটিল অর্থনৈতিক গতিপথ সব মিলে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।
