দিবারাত্রি রক্তক্ষরন হচ্ছে, এর মধ্যে যখন দেখি কেউ সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্যে রূপান্তরিত করে, আর স্রোতারা সেই সকল যন্ত্রনাদায়ক মিথ্যা-বানোয়াট প্রফেশনাল বিউটিশিয়ান দিয়ে সাজানো গল্প শুনে হাত তালি দেয় বা বানোয়াট কষ্টের কাহিনী পড়ে আবেগতাড়িত হয়ে সহানুভূতি জানায় বা তদন্ত ছাড়া, সত্য জানার আগেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও ভিকটিমকেই দোষী সাব্যস্ত করে ফেলে তখন ক্ষতবিক্ষত মানুষটার কষ্টের আর অবশিষ্ট থাকে না। এ যেন সতিকে দ্বিচারিণীর ‘দ্বিচারিণী’ বলে গালি দেয়া!
যখন ক্ষতিগ্রস্তরা লোক লজ্জার কারনে সামাজিক মূল্যবোধের বেড়াজালে সত্য প্রকাশের সুযোগটুকুও পায় না। তখন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা প্রতারক ও লোভি সাজানো গল্পকারের কাছে হেরে যায়। এ যেন মিথ্যাদিয়ে সত্যকে ডেকে দেয়া কিন্তু হেরে যাওয়া উচিৎ নয়। যদি সত্যের জয় চিরকালই সত্যি হয়ে থাকে তবে সামাজিকতার বাঁধা অতিক্রম করে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করে মানুষকে বিভ্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করা উচিৎ। প্রকৃত দোষীর মুখোশ খুলে দেয়া উচিৎ, না হয় আরো অনেকেই প্রতারিত হবে এ জাতীয় প্রতারক বিশ্বাষঘাতকদের দ্ধারা। এদের হাত থেকে মানুষ ও সমাজকে রক্ষা করতে একটু খতিয়ে দেখা উচিৎ।
তাই আমি বন্ধুদের অনুরোধ করবো, আপনি যেখানে যে স্তরেই থাকুন না কেন, সেটা হতে পারে সমাজ, রাষ্ট্র বা ব্যক্তি যে ক্ষেত্রেই হোক সেখানে দাঁড়িয়ে কোন কিছু শুনেই, বা কারো নালিশ শুনেই মতামত বা রায় দিবেন না। নালিশ বা গল্পটা যাচাই করুণ। ওই গল্পের পেছনে অতিগল্প থাকতে পারে, তাই রায় দেয়ার আগে দু’পক্ষকে শুনুন, তাহলে সাক্ষী নেয়ার আগেই দু’পক্ষের কথা থেকে যা পাবেন, তাতেই অন্তত বিচারের রায় দেয়ার উপাদান আপনার বিবেকের কাছে হাজির হবে, তবুও স্বাক্ষী নিন, তার পর রায় দিন। এতে রক্তক্ষরন হওয়া মানুষগূলো বেঁচে থাকার সান্তনা পাবে, পাবে আগামীর পথ চলার রাস্তা। না হলে ক্ষতবিক্ষত মানুষকে আরো রক্তাক্ত করা হবে। তাদের প্রতি অবিচার করা হবে। এ জন্য দুনিয়ার সত্য আদালত কিংবা মিথ্যা আদালত, সকল আদালতই বাদী বিবাদী দুজনের কথা শুনে, সাক্ষী প্রমান নিয়ে তারপরই রায় দেন। কিন্তু ভেবে দেখুন আমরা মানুষরাই একজনের, একপক্ষের আবেগে মোড়ানো কথা শুনেই ‘আহারে উহুরে’ করে মতামত দিয়ে দেই, লিখে ফেলি রায়। যাতে কখনোই ন্যায় বিচার ও সত্যের প্রতিফলন ঘটে না। এটা আরেকটা অন্যায়, অবিচার। যেমন দেখা যায় আমাদের পুলিশ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অনেকেই দু’পক্ষকে না শুনে, না দেখেই প্রতিবেদন দিয়ে দেন, যা মানবতার অধিকতর লঙ্ঘণ। এটি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত মানুষকে আরেকবার নির্যাতন করার সামিল, যার আর রক্তক্ষরনের রক্তই থাকে না, ফলে পতারক, লোভি ও দোষীদের জয় হয়!!!!!!!!
