রাত
তখন এমনই, গভীর রাত, শুনসান নিরবতা আমার বাড়ির চারদিক। সারাদেশ আতংকিত
জরুরী আইনের তান্ডবে। দিনটি আজ ৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৭। আমার বাড়ির পুরানো
কেয়ারটেকার রহিম এসে বললো, স্যার বাড়ির চারিদিকে যৌথবাহিনী ঘিরে রেখেছে।
তারা আমার ঘরে ঢুকলো। আমাকে বললো, স্যার আপনাকে আমাদের সাথে যেতে হবে, উপরের
নির্দেশ আছে স্যার। আমি তাদের সাথে চলে গেলাম, মানে তারা আমাকে আটক করেছে।
পরেরদিন জানলাম এই রাতে অনেক জাতীয় নেতাকে তারা আটক
করেছে। সেই যে গেলাম প্রায় পৌনে তিন বছর পর বের হলাম। জীবন থেকে অনেক
কিছু কেড়ে নিল, সহায় সম্পত্তি সব কিছু জব্ধ করলো, আজও সে অবস্থায় আছে। সেই
অবৈধ জরুরী সরকার আমার জীবন থেকে সব কেড়ে নিলেও শুধু নিতে পারলো না আমার
এলাকার মানুষের ভালবাসা ও সমর্থন। যা আজও আমার প্রেরনা ও বেঁচে থাকার উৎস।
আমি বলবো সেই জরুরী সরকারই দেশের আজকের এই অবস্থার জন্য দায়ী। কারন তারা
তাদের অপকর্মকে বৈধতা দান ও নিজেদের বিদায়ের রাস্তা নিরাপদ করার জন্যই এই আওয়ামী
সরকারকে ২০০৮/২০০৯ সেদিন ভেজাল একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসিয়ে
জেনারেল মঈন উদ্দিন, মাসুদ উদ্দিন ও ফখরুদ্দিন এ সরকারের সার্বিক সহায়তায়
বিদেশে পাড়ি দিলো। তাদের সংবিধান লংঘনের কোন বিচার হলো না। সেই যে আওয়ামী
লীগকে সরকারে বসিয়ে গেলো, তারা আজও আছে অবৈধভাবে ক্ষমতায়, কত প্রাণহানি
ঘটালো কিন্তু ক্ষমতা ছাড়লো না। তাই আমি বলি আজকের দেশের এ অবস্থা ও পরিনতির
জন্য ২০০৭ এর জরুরী সরকারই দায়ী। তারা যদি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে না
যেতো, আওয়ামী লীগ এতো অন্যায়, জলুম, হত্যাকান্ড, দূর্নীতি ও নির্বাচনকালীন
তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করতে পারতো না। আজ সেই জনপ্রিয়
তত্বাবধায়ক ব্যাবস্থা বহাল থাকলে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হতো এবং দেশে
শান্তি ফিরে আসতো। কিন্তু দূর্ভাগ্য সে সুযোগ জাতি পেলো না, আওয়ামী লীগ
গায়ের জোরে অবৈধভাবে আবার ক্ষমতায়। সেই জন্যই বলছি ওই অবৈধ জরুরী সরকারই
দেশের আজকের এ অবস্থার জন্য দায়ী, তারা না আসলে আজও আওয়ামী লীগকে জাতি
ক্ষমতায় দেখতো না।
No Comments
গভীর রাত, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৭
.
