কিছুক্ষণ আগে, আজ রাত দশটা এক মিনিটে কাদের মোল্লার ফাঁসি দিল সরকার। মতান্তরে প্রকাশ, কাদের মোল্লা স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি করতো। এবং ঐ সময়ে, ফরিদপুরের একজন কামেল পীর ও আওয়ামী লীগ একনিষ্ঠ সমর্থকের বাড়িতে থাকতেন। কেউ কেউ এটাও বলিষ্ঠভাবে বলতে চান, কাদের মোল্লা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
যাক….আমার আশংকা হলো, এই মুহূর্তে দেশের অবস্থা খুবই খারাপ। দেশের চারিদিকে বড় রকমের সংঘাতের আলামত দেখা যাচ্ছে। গত মাসাধিককাল ধরে দেশে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে চতুর্পাশে। লক্ষীপুরে আজ জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক সাহাবউদ্দীন সাবু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়, চারজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। সাবুকে পুলিশ-র্যাব তাঁর নিজ বাড়িতে ঢুকে সরাসরি গুলিবিদ্ধ করে। কুমিল্লায় আরও দুইজন সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক মানুষ আহত-নিহত হয়েছে এবং হচ্ছে বলে খবর আসছে।সাবু'র অবস্থা আশংকাজনক, তার অনেক রক্ত ক্ষরন হয়েছে। তাকে চিকিৎসা করতেও দিচ্ছে না এই অমানবিক সরকারের পেটোয়া বাহীনি। সে এখন জীবন মৃত্যুর মুখোমুখি, দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে বাঁচিয়ে রাখে।
সাহাবুদ্দীন সাবুর গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদে আমি মর্মাহত। খুবই সুন্দর ও চমৎকার একজন মানুষ। লক্ষীপুর পৌরসভার মেয়র ছিলেন। বয়সে আমার চেয়ে একটু ছোটই হবেন। মাত্র মাসখানেক আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা ব্রিজের পাঁড়ে একটি রেস্টুরেন্টে তাঁর সাথে আমার দেখা হয়। আমি তাকে চিনতে পারি নাই। সে আমাকে চিনে নিয়ে আমার টেবিলে এগিয়ে এসে বসলো। তবুও আমি তাকে চিনতে পারছিলাম না! কারন, সে আগের চেয়ে একটু পরিবর্তন হয়েছে শারীরিকভাবে। পাশের টেবিলে বসা তাঁর একটি ফুটফুটে বাচ্চা। রেস্টুরেন্ট থেকে বের হবার সময় তাঁর বাচ্চাটাকে আদর করতে ইচ্ছে করলো, তাই করলাম। এবং সাবুর কাছ থেকে বিদায় নিলাম।
১/১১ তে আমরা চট্টগ্রাম কারাগারে একসাথে ছিলাম। অনেক স্মৃতি আমাদের সাথে তাঁর। সে বেশ কিছুদিন আমাদের সাথে একই কক্ষে ছিল। সে ছিল সদালাপী, বিনয়ী ও সম্ভাবনাময় রাজনীতিক। আর তাই আমাদের সকলের অনুজ হওয়া সত্বেও, তাঁর সাথে আমাদের গড়ে উঠে বেশ সখ্যতা। অনেক গল্প, আড্ডার স্মৃতি আজ বারবার চোখের সামনে ভেসে আসছে। চট্টগ্রাম কারাগারে তখন আমি, সাবু, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, ফটিকছড়ির সাবেক সাংসদ রফিকুল আনোয়ার, সাবেক সাংসদ সরোয়ার জামাল নিজাম, সাবেক সাংসদ শাজাহান চৌধুরী ও কুমিল্লার সাংসদ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী একই কক্ষেই ছিলাম। অপেক্ষার প্রহরে বন্দী-জীবনকে সাবু সহ আমরা কত বেদনাবিধুর আড্ডাই না দিলাম! মনে হচ্ছে এই সেই দিন! আজ সেই সাবু জীবন মৃত্যুর মাঝামাঝি। সাবুর যেদিন জামিন হয়, সেদিন জেলগেটে আবার গ্রেফতার আতংকে সবাইকে না জানিয়ে গোপনে কারাগার থেকে বের হয়ে গেল সে। কি নির্মম! সেদিন ১/১১-এর অবৈধ জরুরী সরকারের হাত থেকে বাঁচার জন্য, জেল থেকে লুকিয়ে বেরিয়ে বাঁচতে পারলেও, রেহাই পেলো না বর্তমান অবৈধ হাসিনা সরকারের হাত থেকে। আজ দেশের চরম ক্রান্তিকাল। গণতন্ত্র মৃত্যু পথযাত্রী। চর দখলের মত ক্ষমতা দখল করে বসে আছে এই সরকার! কাতারে কাতারে মানুষের মৃত্যু ও রক্তের স্রোত মাড়িয়ে তিনি ক্ষমতায় থাকতে চান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদেই থাকতে চান। মানুষ তাঁকে না মানলে কি আসে যায়! দেশের আজ বড়ই দুর্দিন।
No Comments
সাবুকে ঘরে ডুকে গুলি!
.
