জাতিসংঘসহ পশ্চিমা বিশ্বের অব্যাহত তাগিদের পরও সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে শেষ পর্যন্ত প্রধান দুই দলের সমঝোতা হয়নি। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির বর্জন আর ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তীব্র হতাশ হয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। নির্বাচনের ঠিক আগেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দুই শীর্ষ কূটনীতিক। এসব বৈঠকে সংঘাত এড়ানো আর সংকটের শান্তিপূর্ণ উপায় খুঁজে বের করার অনুরোধ জানান কূটনীতিকেরা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামীকাল অনুষ্ঠেয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রধান দুই দলকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে শেষ মুহূর্তেও তাগিদ দেন পশ্চিমা কূটনীতিকেরা। এতে কাজ না হওয়ায় নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার ও যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের বাসায় দুই দফা বৈঠক হয়। পরিস্থিতি কোন পথে এগোচ্ছে, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন তাঁরা। জানা গেছে, বিরোধী দলবিহীন এ নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তার আভাস ইতিমধ্যেই দিয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। এ নির্বাচনকে পাশ্চাত্যের দেশগুলো ‘ভালো’ নির্বাচনের সনদ দেবে না। ভোটারবিহীন এ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও আভাস মিলছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধার (জিএসপি) ক্ষেত্রে কাটছাঁট কিংবা অন্য কোনো উপায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া মার্কিন সিনেটের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে শুনানির পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব আসতে পারে।
দশম সংসদ নির্বাচন হয়ে যাক, যত দ্রুত সম্ভব একাদশ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংলাপ হবে—সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এ কথাটি বলা হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের আসল চিন্তাটা কী, সেটি বোঝার চেষ্টা করছে বিদেশি কূটনীতিকেরা। এ বিষয়ে যদি সরকার আসলেই আন্তরিক হয়, তাহলে সংলাপ অনুষ্ঠানে তাঁদের চেষ্টা আরও জোরদার করতে পারেন বলে পশ্চিমা বিশ্বের কূটনীতিকদের মত।
‘নির্বাচন নিয়ে আগাম মন্তব্য নয়’: বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বা নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকেরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-মুখপাত্র মেরি হার্ফ কোনো মন্তব্য করেননি।
নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন এবং প্রধান বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করছে উল্লেখ করে সাংবাদিকেরা জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র কি এই নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেবে?
মেরি হার্ফ বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আমরা আগাম কিছু বলতে চাই না। আমি তো এটা পরিষ্কার করে বলেছি যে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এর থেকে পরিষ্কার যে, এটা শুভ লক্ষণ নয়। তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আগাম কোনো মূল্যায়ন বা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আমরা কী বলব, তা নিয়ে আগেভাগে কিছু বলতে চাই না।’
বিরোধীদলীয় নেতার ‘অন্তরীণ’ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলেও মেরি হার্ফ কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এ নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে খোঁজ নেবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
এর আগে সাংবাদিকেরা জানতে চান, বাংলাদেশ সম্পর্কে সর্বশেষ কোনো তথ্য আছে কি না, মেরি বলেন, ‘গত সোমবার আমরা যা জানিয়েছিলাম, তার পর থেকে সর্বশেষ আর কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। ওই দিন যা বলেছিলাম সেটিই আজ আবার বলছি, আমরা বিশ্বাস করি, গঠনমূলক সংলাপের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচেষ্টা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন দ্বিগুণ করা উচিত। অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ তাদের খুঁজে বের করতে হবে। সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়, কেননা তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে।’
মেরি হার্ফ বলেন, ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছি না। আমরা খুবই হতাশ যে একটা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি এবং যতটুকু যুক্ত থাকা প্রয়োজন তা আছি।’
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/115387/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%9D%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%BE_%E0%A6%A8%E0%A6%BE_%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A7%9F_%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B6_%E0%A6%AA%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামীকাল অনুষ্ঠেয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রধান দুই দলকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে শেষ মুহূর্তেও তাগিদ দেন পশ্চিমা কূটনীতিকেরা। এতে কাজ না হওয়ায় নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার ও যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের বাসায় দুই দফা বৈঠক হয়। পরিস্থিতি কোন পথে এগোচ্ছে, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন তাঁরা। জানা গেছে, বিরোধী দলবিহীন এ নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তার আভাস ইতিমধ্যেই দিয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। এ নির্বাচনকে পাশ্চাত্যের দেশগুলো ‘ভালো’ নির্বাচনের সনদ দেবে না। ভোটারবিহীন এ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও আভাস মিলছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধার (জিএসপি) ক্ষেত্রে কাটছাঁট কিংবা অন্য কোনো উপায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া মার্কিন সিনেটের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে শুনানির পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব আসতে পারে।
দশম সংসদ নির্বাচন হয়ে যাক, যত দ্রুত সম্ভব একাদশ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংলাপ হবে—সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এ কথাটি বলা হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের আসল চিন্তাটা কী, সেটি বোঝার চেষ্টা করছে বিদেশি কূটনীতিকেরা। এ বিষয়ে যদি সরকার আসলেই আন্তরিক হয়, তাহলে সংলাপ অনুষ্ঠানে তাঁদের চেষ্টা আরও জোরদার করতে পারেন বলে পশ্চিমা বিশ্বের কূটনীতিকদের মত।
‘নির্বাচন নিয়ে আগাম মন্তব্য নয়’: বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বা নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকেরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-মুখপাত্র মেরি হার্ফ কোনো মন্তব্য করেননি।
নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন এবং প্রধান বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করছে উল্লেখ করে সাংবাদিকেরা জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র কি এই নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেবে?
মেরি হার্ফ বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আমরা আগাম কিছু বলতে চাই না। আমি তো এটা পরিষ্কার করে বলেছি যে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এর থেকে পরিষ্কার যে, এটা শুভ লক্ষণ নয়। তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আগাম কোনো মূল্যায়ন বা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আমরা কী বলব, তা নিয়ে আগেভাগে কিছু বলতে চাই না।’
বিরোধীদলীয় নেতার ‘অন্তরীণ’ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলেও মেরি হার্ফ কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এ নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে খোঁজ নেবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
এর আগে সাংবাদিকেরা জানতে চান, বাংলাদেশ সম্পর্কে সর্বশেষ কোনো তথ্য আছে কি না, মেরি বলেন, ‘গত সোমবার আমরা যা জানিয়েছিলাম, তার পর থেকে সর্বশেষ আর কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। ওই দিন যা বলেছিলাম সেটিই আজ আবার বলছি, আমরা বিশ্বাস করি, গঠনমূলক সংলাপের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচেষ্টা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন দ্বিগুণ করা উচিত। অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ তাদের খুঁজে বের করতে হবে। সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়, কেননা তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে।’
মেরি হার্ফ বলেন, ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছি না। আমরা খুবই হতাশ যে একটা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি এবং যতটুকু যুক্ত থাকা প্রয়োজন তা আছি।’
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/115387/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%9D%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%BE_%E0%A6%A8%E0%A6%BE_%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A7%9F_%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B6_%E0%A6%AA%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC

