কেন্দ্রে যাবে না বিএনপির নেতাকর্মীরা
খাগড়াছড়িতে ভোটবর্জনে প্রচারপত্র ওয়াদুদ ভূইয়ার
খাগড়াছড়ি আসনে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিকে ভোটবর্জন ও কেন্দ্রে না যাবার আহ্বান সম্বলিত প্রচারপত্রে ছেয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম।এই প্রচারপত্র বিলির খবরে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নির্বাচনী শিবিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভূইয়ার নামে ছাড়া এই প্রচারপত্র নিয়ে শহর থেকে গ্রাম চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এই লিফলেটের প্রভাবে হঠাৎ করে বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মেরুকরণ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিনভর জেলার মহালছড়ি উপজেলার মাইস্ছড়ি, দীঘিনালা উপজেলার জামতলী, সদর উপজেলার ভুয়াছড়ি এবং পানছড়ি উপজেলার ভাইবোনছড়া এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এ পরিসি’তি বোঝা গেছে।
গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে ‘একতরফা প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করুন’ শিরোনামের এই প্রচারপত্রের শেষ দিকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ৫ জানুয়ারির একতরফা ভোট প্রতিরোধ, প্রতিহত ও বর্জনের লক্ষে এলাকাভিত্তিক জনমত গঠনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বিএনপি সমর্থক ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রে না যায়, সে ব্যবস’া গ্রহণে নেতাকর্মীদের প্রতি ঐকান্তিক আহ্বান জানানো হয়।
মাইস্ছড়ি ইউনিয়নের জয়সেন পাড়ার ক্ষুদ্র দোকানি মন্তাজ আলী, দিনমজুর আইনাল হক এবং কলেজছাত্র সাইদুর রহমান জানান, আমরা যে দলেরই সমর্থক হই না কেনো, ভোট তো আমাদের নাগরিক অধিকার। কিন’ একতরফা এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে শান্তি আসবে না। তাই আমরা ভোটকেন্দ্রে যাবো না। এসব গুচ্ছগ্রামবাসী সরকারি দল মনোনীত প্রকল্প চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ভোটকেন্দ্রে না গেলে রেশনকার্ড বাতিলের হুমকির কথা স্বীকার করে বলেন, কোনো চাপের কাছে আমরা নত হবোনা।
খাগড়াছড়ি জেলার ৮ উপজেলায় ৮১টি গুচ্ছগ্রামে প্রায় এক লক্ষ ভোটার রয়েছে। এসব ভোটারদের বিএনপির ভোটব্যাংক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তাদের অনেকে নির্বাচনে কেন্দ্রে যাবার মনসি’র করলেও সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভূইয়ার প্রচারপত্রের ফলে পাল্টে গেছে জেলার নির্বাচনী হিসেব-নিকেশ।
দীঘিনালা উপজেলার জামতলী এলাকার দিনমজুর হাসমত আলী জানান, সাধারণ মানুষ হিসেবে এই নির্বাচনের ফলে দেশের পরিসি’তি উত্তরণের কোন ইংগিত পাচ্ছি না। তাছাড়া বিএনপির প্রচারপত্র আমাদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।
মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক জানান, আওয়ামী লীগ নেতারা এবং গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যানরা বিএনপি সমর্থক গুচ্ছগ্রামবাসীদের রেশনকার্ড বাতিলের অজুহাতে কেন্দ্রে যাবার চাপ প্রয়োগ করছেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মাটিরাঙা পৌর চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ চৌধুরী জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রশাসনের কাছ থেকে নির্বাচনে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এর বাইরে জেলার গুচ্ছগ্রামগুলোতে রেশনকার্ড বাতিলের হুমকি দেয়ার খবরও পাচ্ছেন।
প্রবীণ এই বিএনপি নেতা দৃঢ়তার সাথে দাবি করেন, যাতে বেশি সংখ্যক ভোটারকে ভোটকেন্দ্রবিমুখ রাখা যায়, সেটিই আমাদের চ্যালেঞ্জ এখন। জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা জানান, একতরফা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আমরা জেলায় সর্বাত্মক প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছি। আমাদের কেন্দ্রভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে নির্বাচন বর্জনের জনমত গঠন করে চলেছে।
জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষনেতা সমীর দত্ত চাকমা জানান, বিরোধীদল তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে গেলেও জনগণকে ভোটবিমুখ রাখা যাবে না। কারণ বর্তমান সরকারের আমলে খাগড়াছড়িতে বিপুল উন্নয়ন হয়েছে
সূত্রঃ দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ।
