মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বলছি


.

মন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের, আপনাকে বলছি, আপনি ও আমি একসাথে অনেকদিন কারাগারে একই কক্ষে ছিলাম।

যে তারেক এ দেশের নন্দিত নেতা, যার বাবা ছিলেন খুবই জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট ও রাষ্ট্রনায়ক। অন্যদিকে যার মা একাধিকবার এ দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। যার জন্য এ দেশের লক্ষ-কোটি ছাত্র-যুবক জীবন দিতেও এক মিনিট চিন্তা করবে না। সেই তারেক রহমানকে আপনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে আজ বলেছেন, "সাহস থাকলে দেশে আসুন"। তারেক রহমানকে 'কাপুরুষ'ও বলেছেন। আপনার মত একজন সুপুরুষ নেতার মুখে এমন কথা যায় না। আমি জানতাম, আপনি একজন পরিপক্ক্ব ও মাঠ থেকে উঠে আসা নেতা। কিন্তু আপনি একি বললেন?

আপনি কারাগার থেকে বের হয়ে বলেছিলেন, "এটি কারাগার নয়, পাঠশালা। আর এখান থেকে অনেক শিক্ষা নিয়ে বের হয়েছি"। তাহলে আপনি কোন পাঠশালার শিক্ষা তারেক রহমানের উপর ছাড়লেন?

আপনি ভুলে গেছেন, পুলিশ দিয়ে, অন্যায়ভাবে আরোপিত আইন দিয়ে দেশে আসতে দিচ্ছেন না আপনারা তারেক রহমানকে। আপনারা হাতে বন্দুক উঁচিয়ে রেখেছেন, আর তাঁকে বলছেন খালি হাতে আসতে এবং তাঁর জন্য দীর্ঘমেয়াদে কারাগার খোলা রেখে। আপনার অবৈধ ভোটারবিহীন নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সকল অপশক্তি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করে, তাঁকে বলছেন, "সাহস থাকলে দেশে আসতে"? হ্যাঁ, তিনি আসবেন। এ দেশের কোটি কোটি মানুষের ভালবাসার অহিংস অস্ত্র নিয়েই আসবেন। যে অস্ত্রের মোকাবেলা করার কোন প্রকার অস্ত্রবলই এখন আর নাই আপনাদের। আপনি সুপুরুষ হয়ে থাকলে ঠেকান, আমরা আংগুল চুষবো।

আর কেউ না জানুক, আপনি তো জানেন, যেই জরুরি অবৈধ সরকার আপনাকে গায়ে হাত দিয়ে নির্যাতন করেছিল, আপনার গলার চেইন ছিড়ে আপনাকে টর্চার করেছিল এবং অবশেষে যারা আপনাদেরকে ক্ষমতা দিয়ে নিরাপদে প্রস্থান নিয়েছিল, সেই আপনাদেরই পূর্বসূরী অবৈধ ১/১১'র জরুরী সরকারকে দিয়ে আপনার নেত্রী যে তারেক রহমানকে মারাত্বকভাবে আহত করিয়ে শর্ত দিয়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে পাঠিয়েছেন, যে তারেক দেশে আসবে - এটি চিন্তা করতেই আপনার নেত্রী দিশেহারা হয়ে যায়, সেই তারেক রহমানকে আপনি কী করে চ্যালেঞ্জ দিলেন? আমার ভাবতে অবাক লাগে!

আমি জানি, আপনি ফেসবুকে আছেন এবং আমার ফ্রেন্ডলিষ্টেও আছেন। তাই আমি আপনাকে ফেসবুকেই চ্যালেঞ্জ দিলাম, আপনারা খালি হাতে, সরকারি ক্ষমতা ও গুলি-গ্রেফতার মাত্র ৭ দিনের জন্য বিরত রেখে আসুন, এ দেশে তো নয়ই, লন্ডনস্থ গলিতেও আপনাদের স্থান হবে না। টিকতে পারবেন না ইনশাআল্লাহ। কারণ আপনাদের আওয়ামী লীগের ভোটারেরাও এখন আপনাদের বিরুদ্ধে লাঠি ধরবে। তারেক জিয়ার প্রয়োজন হবে না আপনাদের পতনের জন্য। অপেক্ষায় থাকুন, এমন বাকশালি হুংকার আর ৪/৫ মাসের বেশী দিতে পারবেন না। এ দেশের জনগণ তা অচিরেই বন্ধ করে দিবে। আপনাদের কথা-বার্তায় সে রকমই ইঙ্গিত পাচ্ছে দেশবাসী।