গতকাল সন্ধ্যায় নাজমুল ও আলী আসলো আমার বাসায়, আমি কিছু জরুরী ফোনে ব্যস্ত ছিলাম, ওরা অনেকক্ষন অপেক্ষা করলো। এক পর্যায়ে ওদের সাথে যোগ দিলাম, কুশল বিনিময় শেষে দেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলাপ। যেহেতু দেশ প্রায় মাসাধিককাল ধরে হরতাল-অবরোধ এর মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করছে। সকলের জীবনেই এর প্রভাব পড়েছে, তাই আজকাল যার সাথে যারই দেখা হয় প্রথমেই আলোচনায় আসে এই বিষয়টি। তারা জানতে চাইলো অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো তো আজ চলে যাচ্ছে, সে তো আজ প্রায় সাত দিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে ব্যস্ত সময় কাটালো। এই প্রেক্ষাপটে চলমান সমস্যার সমাধান কি আশা করা যায় ? কেন দেশের এই অবস্থা তা আজ এখানে লিখলাম না। তাদের ইত্যাদি প্রশ্নের মধ্য দিয়ে আলোচনা এগুতে থাকলো। আলোচনা দীর্ঘ হওয়ার কারণ ছিলো না, হাতে সময়ও ছিলো, নানা বিষয় আলোচনায় উঠে আসলে, আলোচনা গভীর হতে হতে রাত গভীর হয়ে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যু, স্থানীয় রাজনীতির খুটিনাটি, আমার কারাজীবন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন অংশগ্রহন করলাম না, আগামী নির্বাচন হবে কিনা, হলে আমি অংশগ্রহন করবো কিনা, পার্বত্য চট্টগ্রামে UNDP'র ভূমিকা কি ছিলো ও কি হতে পারে, আমার বিদেশ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা, শান্তিবাহিনী'র মানুষ হত্যাকান্ডের নির্মমতা চোখে দেখা ভয়াল অভিজ্ঞতা, ইত্যাদি আলাপচারিতায় নিজেদের অজান্তেই রাত প্রায় বারটা পেরিয়ে গেছে। এক পর্যায়ে নাজমুল আমাকে বললো, স্যার আপনি অনলাইনে তো অনেক কাজ করেন, ফেইসবুক, পেইজ, টুইটার, স্কাইপে, ভাইবার ও ওয়েবসাইট এতো কিছু ব্যবহার করেন কিন্তু ব্লগ কেন নয়? আমি বললাম, চলছে তো এতকিছুর প্রয়োজন কি? রাজনীতিতে অনেক ব্যস্ত থাকি তার উপর অনলাইনে খুব বেশী সময় দিতে পারি না। ব্লগ করার সময় কই ? তারা বললো ব্লগ তো নীজের জীবনের গল্প লিখার একটা দারুন জায়গা। ব্লগ একজন মানুষের জীবনের ডায়রি হয়ে উঠতে পারে। প্লিজ স্যার আপনার যেহেতু লেখালেখির আগ্রহ আছে একটা ব্লগ খুলুন, আসুন আমরাই খুলে দেই আজ রাতে, এক্ষুনি যদি আপনি আপত্তি না করেন, সময় দিতে পারেন। গতকাল আমার প্রিয় বন্ধু ড. আমিনও বলছিলো তোমার একটা ব্লগ খুললে ভাল হতো। ওদের আগ্রহে আমার উৎসাহ বেড়ে গেল। অবশেষে আরো কিছু সময় পরে ওদের নিয়ে বসে গেলাম ব্লগ নির্মানে। আমরা বাকী রাত জেগে ব্লগের এপর্যায়ে এসে দাড়ালাম। আমার খুব খুবই আনন্দ লাগছে। ভীষন ভাল লাগছে আজ আমি একটি ব্লগের মালিক হলাম এই ভেবে। ধন্যবাদ নাজমুল, আলী ও বন্ধু আমিন কে । এই লিখা শেষ করার আগেই জানতে পারলাম জামায়াতের কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের আদেশের বিরোদ্ধে তার পক্ষে করা পিটিশন বাতিল করে দিয়েছে মহামান্য সুপ্রিমকোট। এতে এখন আর কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হতে আর কোন বাধা থাকলোনা। মনে হচ্ছে দু'এক দিনের মধ্যেই তার ফাঁসি হয়ে যাবে এবং এ ফাঁসিকে কেন্দ্র করে দেশের অবস্থা আরো খারাপের দিকে যেতে পারে, ফলে সরকার একদলীয় জাতীয় নির্বাচন না করে, জরুরী অবস্থা জারি করে সূযোগ নিবে একদলীয় সরকারের দীর্ঘ মেয়াদী আয়ু !!


আপনার নিজের লেখা পড়ার, আপনার চিন্তা-চেতনা-ধারনা ইত্তাধি আরও গভীরভাবে জানার, বোঝার, অনুধাবন করার সুযোগ তৈরি হল আমাদের জন্য।
ধন্যবাদ, উৎসাহিত হলাম।