মুন-কেরি’র ফোন উপেক্ষার প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে!


.

মুন-কেরি’র ফোন উপেক্ষার প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে

আন্তর্জাতিক দুনিয়ার আগ্রহের কেন্দ্রে এখন বাংলাদেশ। প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন জাতিসংঘ
মহাসচিব বান কি-মুন। বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তিনি। বাংলাদেশে ফোন করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। কিন্তু পরিস্থিতির কোন বদল হয়নি। এ অবস্থায় বাংলাদেশ একটি মধ্যমেয়াদি সঙ্কটের দ্বারপ্রান্তে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বান কি-মুনের ফোন উপেক্ষার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও কথা বলেছেন তিনি। চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অভিহিত করেছেন লজ্জাকর, হাস্যকর এবং অরুচিকর হিসেবে। তৃতীয় কোন পক্ষের বল প্রয়োগ ছাড়া সঙ্কটের সমাধান না হওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রোববার রাতে ‘গ্রামীণ ফোন আজকের সংবাদপত্র’ অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির এই ফেলো এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থাপক সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা মাঝখানে। গতকাল পালিত হলো শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। একদিন পর মহান বিজয় দিবস। আপনি তো দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। বাংলাদেশ নিয়ে আপনি কি শুনে এলেন? জবাবে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা আজও আমাদের জন্য নাগরিক চেতনার অনুপ্রেরণার উৎস। আর বিজয় দিবস উপলক্ষে সবাইকে অভিনন্দন জানাই। ২০১৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ নিয়ে যে প্রশ্ন করা হয় তা আমার জন্য অস্বস্তিকর। ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়ায় বাংলাদেশ নিয়ে ভিন্ন ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সামপ্রতিককালে বাংলাদেশের অর্জন বিভিন্ন দেশে আলোচিত হয়েছিল। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা নিয়েও আলোচনা হতো। কিন্তু এখন আগ্রহটা রাজনীতি নিয়ে। অনেক জায়গাতেই বাংলাদেশের জটিল রাজনৈতিক সমীকরণকে অতিমাত্রায় সরলীকরণ করা হয়েছে। তারা আমাদের দুই নেত্রী সম্পর্কে জানতে চান। তবে এখন তারা সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে, বিনিয়োগ নিয়ে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন একাধিকবার বাংলাদেশে ফোন করেছেন। সামপ্রতিককালে তিনি বিশ্বের অন্য কোন দেশে এতবার ফোন করেছেন এমন উদাহরণ খুবই কম। জন কেরির মতো লোক, যিনি হয়তো বাংলাদেশ কোন ভূখণ্ডে অবস্থিত তা স্পষ্ট করে জানেন না, তিনিও ফোন করেছেন। তারপরও বাংলাদেশে কেন কোন ব্যত্যয় নেই। এটা তাদের কাছে বিস্ময়কর।
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, কেন নেই? দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের আগ্রহ ঠিকমতো মূল্যায়ন করতে না পারার কারণেই তা হতে পারে। বান কি-মুন বাংলাদেশে ফোন করে করে যদি কোন প্রতিক্রিয়া না পান তাহলে কি হতে পারে তা আন্দাজ করা যায়। এরপর জাতিসংঘে বাংলাদেশের ইস্যুটি উত্থাপনের বিষয়টি আসে। বাংলাদেশে যারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান তারা সেখানে কথা বলবেন। আফ্রিকার মালি, বুরুন্ডির মতো দেশের সমগোত্রীয় হয়ে যেতে পারি আমরা। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ সর্ববৃহৎ সেনা দিয়ে থাকে। সে জায়গাগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। তিনি বলেন, আগে বলা হতো সংঘাতের ভেতরে থাকা দেশ, সংঘাত-উত্তর দেশ। এখন বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আলজাজিরা দেখলাম তাই বলেছে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন থেকে আইন সভাতেও বাংলাদেশ ইস্যুতে আলোচনা হচ্ছে। এর ফলে কি হবে তা হুট করে বলে ফেলা মুশকিল। বাংলাদেশ নিয়ে এখন দেশীয় উদ্বেগ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকে অবশ্য এ বিষয়টাকে ভ্রান্ত জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিতে দেখে থাকেন। ‘বাংলাদেশে অর্থনীতি নাজুক অবস্থায় পড়ছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সহিংস পরিস্থিতিতে কর আরোহণ সীমিত হয়ে পড়েছে। যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্র ঋণ দিচ্ছিল তাদের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যা ঘটছে অনেকে শুধু তার স্বল্পমেয়াদি প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবছেন, কিন্তু মধ্যমেয়াদি প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবছেন না।
উপস্থাপক মতিউর রহমান চৌধুরী ১৫১ আসনে মহাজোট প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার কথা উল্লেখ করলে ড. দেবপ্রিয় বলেন, আপনি কি সরকারকে অভিবাদন জানাতে বলছেন। এ নির্বাচনে সঙ্কটের কোন সমাধান হবে না। তিনি বলেন, অনেকে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে সমর্থন করেন। তার মানে এই নয় যে, তারা আজেবাজে নির্বাচন মেনে নেবেন। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন বরং যুদ্ধাপরাধ বিচারের ভিত্তি হতে পারতো। যে সরকার এরকমভাবে নির্বাচিত তারা কিভাবে নাশকতা মোকাবিলা করবে, তারা কিভাবে আমাদের নিরাপত্তা দেবে? রাষ্ট্রযন্ত্রকে সচল রাখতে হলে বৈধ সরকার প্রয়োজন হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়া লজ্জাকর, হাস্যকর এবং অরুচিকর। তিনি বলেন, এখন দু’পক্ষই বল প্রয়োগ করছে। দু’পক্ষই যখন বল প্রয়োগ করে তখন অন্য কোন বল প্রয়োগ ছাড়া সঙ্কটের সমাধান হয় না। আমরা মধ্যমেয়াদি সঙ্কটের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছি।

সংগৃহীত