গত কয়েকদিন ধরে দেখছি, পাহাড়ের ছেলেরা আমাদের শিল্পী আসিফকে নিয়ে অনেক নেতিবাচক লেখালেখি করছে। যা অনেকটা গালাগালির পর্যায়ে পড়ে। তাই আসিফকে নিয়ে আমার কিছু লেখার কারণ দেখা দিয়েছে বলে মনে করি। এবং আমার এই পোস্টটি সে কারণেই।
শিল্পী আসিফের গান আমার খুব ভালো লাগতো, লাগে। আসলে সে দেশের একজন প্রতিভাবান শিল্পী। এমন ভরাট গলার শিল্পী খুব কমই জন্মেছে আমাদের দেশে।
এখন অবশ্য তার আগের মত করে চাহিদা না থাকলেও ভালো তো সব সময়ই ভালো। প্রতিভাবান কখনো প্রতিভাহীন হয় না। আসিফ আকবরের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। অবশ্য তিনি ইতোমধ্যে একজন নেতাও বটে।
তবে নেতা হিসাবে না হলেও শিল্পী হিসেবে আমি তার ভক্ত। তার 'প্রিয়া ও প্রিয়া' গানটি আমাকে অনেক টানতো। এখনো বোধহয় কিছুটা টানে। শিল্পী হিসেবে পছন্দ করি বলেই ২০০৩-৪ সালের দিকে তাকে আমি একবার খাগড়াছড়ির পানছড়ি নিয়ে গিয়েছিলাম ওপেন এয়ার কনসার্টে। কিন্তু তার গান শুনার ভাগ্য হয়নি, জমায়েত হওয়া হাজার হাজার দর্শকশ্রোতার। আসিফ যখনই মঞ্চে উঠার জন্য এক পা দিলো, আর তখনই হাজার হাজার মানুষ জান বাঁচাতে দৌড় শুরু করলো! তবে পাহাড়ের কোন অস্ত্রধারীদের আক্রমণে নয়, প্রকৃতিই বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো এবার। প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় তছনছ করে দিলো মঞ্চ। কনসার্টের ইনস্ট্রুম্যান্ট রক্ষা ও শিল্পীদের তাদের অচেনা জায়গায় রক্ষা করতে আমরা রীতিমতো ব্যস্ত সমস্ত। তার উপর আপন জান নিয়েই তখন টানাটানি। এমনি এক অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা কনসার্ট না করেই পানছড়ি থেকে খাগড়াছড়ি জেলা শহরে ফিরে আসলাম। আসিফের সাথে কথামতো তার মোটা অংকের সম্মানী প্রদান শেষে আসিফ ও তার দলকে সরকারী আধুনিক রেষ্ট হাউজে থাকার ব্যবস্থা করলাম। অবশ্য ইতোমধ্যে প্রকৃতি হয়ে গেল শান্ত, কিন্তু শ্রোতাদের মন হয়ে উঠলো অশান্ত। আসিফের গান শুনার আগ্রহ আমাদের থামলো না। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আসিফকে অনুরোধ করা হল, স্বল্পপরিসরে হলেও টাউন হলে বা রেষ্টহাউজ মিলনায়তনে সে যেন আয়োজকদেরকে গান শুনায়। আয়োজকদের ধারনা ছিলো, যেহেতু তাকে তার সমস্ত সম্মানী দেওয়া হয়েছে, নিশ্চয় সে গান শুনিয়ে যাবে। কিন্তু না! তিনি সবাইকে হতাশ করে জানিয়ে দিলেন গান গাইবেন না। তবে তার বিবেচনায় এটা কিন্তু আসেনাই, গান যেহেতু গাইতে পারিনাই, সেহেতু আয়োজকদের থেকে সব টাকা নেয়া কি ঠিক হচ্ছে? যাক ওটা তার পেশা, না গাইলেও টাকা নিতে দোষ কি!
এভাবে আসিফকে আমার চেনা। অবশ্য ইতোমধ্যে শুনলাম তিনি নাকি কুমিল্লার নেতাও হয়েছেন। খুব ভালো এবং খুশীর খবর। শিল্পি কাম নেতা ভারতে থাকলেও আমাদের এখানে ঠিক সেভাবে নাই। তাই তাকে স্বাগতম। তাছাড়া তিনি আমাদের একই দলেরই মানুষ হওয়াতে তার ক্ষেত্রে আমরা একটু বেশি ইতিবাচক, এতে কোন সন্দেহ নেই।
আমি আসিফ সাহেবকে অনুরোধ করবো, বড় শিল্পী বা নেতা হওয়া আর ইতিহাসবিদ বা বুদ্ধিজীবী হওয়া এক নয়। পাহাড়ের কেউ বন্ধু হলেই যে তাকে ভূমিপুত্রের সার্টিফিকেট দিতে হবে এই ধারনা আপনি কোত্থেকে পেলেন? সব বন্ধুরা কি বোনজামাই হতে পারে? আমার মনে হয়, এসব নিয়ে কথা বলার আগে ভূমিপুত্রের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা জানা দরকার। পাহাড় তো বাংলাদেশেরই অংশ বা উঠোন। এই দেশের ভূমিপুত্র যদি আপনার বন্ধুই হয়, তবে আপনিসহ আমরা সবাইতো পরপুত্র হয়ে যাই, কথাটা কি ভেবেচিন্তে বলেছেন? নাকি টিনেজারদের আবেগপ্রবণ ভালোবাসার বাক্যালাপের মত বলে ফেলেছেন? যেহেতু আপনি একজন বড় শিল্পী এবং নেতাও, তাই আমি আপনাকে অনুরোধ করবো স্পর্শকাতর ও জাতীয় ইস্যুভিত্তিক বিষয়গুলোতে কথা বলতে একটু হিসেব করে বলতে। অন্ততপক্ষে পাহাড়ের ক্ষেত্রে তো বটেই।
[সম্প্রতি আসিফ তার ফেসবুক পেইজে পাহাড়ের ভূমিপুত্রদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন। পরে ক্রমাগত সমালোচনার মুখে নিজের মন্তব্য ওই পোস্ট থেকে সরিয়ে ফেলেছেন।]
[সম্প্রতি আসিফ তার ফেসবুক পেইজে পাহাড়ের ভূমিপুত্রদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন। পরে ক্রমাগত সমালোচনার মুখে নিজের মন্তব্য ওই পোস্ট থেকে সরিয়ে ফেলেছেন।]
